
বিরামপুর যুবদল নেতা জরিমানা
bdnewsnetwork.com
ভোটের আগে কড়া নজরদারি: বিরামপুরে নিয়ম ভাঙলেই শাস্তি!
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের কড়া নজরদারির চিত্র স্পষ্ট হলো প্রথম দিনেই। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচার-প্রচারণা চালানো এবং প্রতীক উল্লেখ করে ভোট চাওয়ার অভিযোগে স্থানীয় যুবদল নেতা মানিক হোসেনকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই ঘটনায় পুরো জেলার রাজনৈতিক মহলে শুরুতেই এক কড়া বার্তা পৌঁছে গেল— নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনে কোনো ছাড় নয়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় যুবদলের একটি মতবিনিময় সভা চলাকালীন সময়েই সেখানে অভিযান চালান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
মতবিনিময় সভার আড়ালে নির্বাচনী প্রচার!
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে পলিপ্রয়াগপুর ইউনিয়নের কামারপাড়া গ্রামে স্থানীয় যুবদল নেতারা একটি সভার আয়োজন করেন। সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেনের পক্ষে জনসমর্থন তৈরি করা। ওই সভায় বিএনপি, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন শাখার বেশ কয়েকজন নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
যদিও এটিকে ‘মতবিনিময় সভা’ বা ‘উঠান বৈঠক’ হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল, তবে সভা থেকে নির্ধারিত সময়ের আগে সরাসরি ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাওয়া হচ্ছিল বলে খবর পায় উপজেলা প্রশাসন। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রচারণার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু সেই নিয়ম অগ্রাহ্য করে প্রচার চালাচ্ছেন— এমন অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে মাঠে নামে প্রশাসন।
পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, ভবিষ্যতের জন্য কড়া পরামর্শ
অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিয়া নওরীন বিরামপুর থানার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে কামারপাড়া গ্রামে অভিযান পরিচালনা করেন। ঘটনাস্থলে গিয়েই তিনি অভিযোগের সত্যতা খুঁজে পান।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীন জানান, “নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর প্রচার-প্রচারণার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা থাকে। নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনী প্রচার চালানোর কোনো সুযোগ নেই। সেখানে ‘উঠান বৈঠকের’ আড়ালে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণা চালানো হচ্ছিল। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মতবিনিময় সভার আয়োজক ও স্থানীয় যুবদল নেতা মানিক হোসেনকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর নির্বাচনী আচরণবিধিমালা অনুযায়ী পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন যে, উপস্থিত সকল নেতা-কর্মীকে ভবিষ্যতে অবশ্যই নির্বাচনীবিধি মেনে প্রচার-প্রচারণা চালানোর জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিরামপুরের এই ঘটনা প্রমাণ করে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রশাসন নির্বাচনী আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দলকেই এখন থেকে প্রতি পদক্ষেপে নির্বাচনী আচরণবিধির বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে, অন্যথায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনিবার্য।

