⚖️ তারেক রহমানকে নিয়ে ‘কটূক্তি’: শাহিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ব্যাখ্যা

প্রকাশিত: 2:24 PM, November 20, 2025

⚖️ তারেক রহমানকে নিয়ে ‘কটূক্তি’: শাহিন মাহমুদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন খারিজ, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের ব্যাখ্যা

https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

 

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০২৫, ১৪:৩০ bdnewsnetwork.com

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে ‘আপত্তিকর ও মানহানিকর কটূক্তি’ করার অভিযোগে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনাল। আদালত মনে করেন, অভিযোগটি দেশের নবপ্রণীত সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর আওতায় বিচার্য নয়। এই সিদ্ধান্ত দেশে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রাজনৈতিক সমালোচনার সীমানা এবং আইনি প্রয়োগের জটিলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

আদালতের সিদ্ধান্ত ও আইনি অবস্থান

 

ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের মাননীয় বিচারক সাইদুর রহমান গাজী আজ বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সহসাধারণ সম্পাদক ইলতুৎমিশ সওদাগর-এর করা আবেদনটি খারিজ করে দেন।

গতকাল বুধবার মামলার আবেদনটি জমা দেওয়া হয়েছিল। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদেশের জন্য আজকের দিনটি নির্ধারণ করেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, মামলার আবেদন খারিজ হওয়ার প্রধান কারণ হলো: যে ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছিল, তা বর্তমান সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশে (২০২৫) কাভার করছে না। অর্থাৎ, অভিযোগকারী যে ধারায় আইনি প্রতিকার চেয়েছেন, সেই ধারার উপাদান বা শর্তগুলো পোস্টটিতে পাওয়া যায়নি।

অভিযোগের মূল বিষয়বস্তু

 

মামলার আবেদনের অভিযোগে বলা হয়, গত ১২ নভেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি দলীয় সমাবেশে ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে, গণভোটের চাইতে আলুর ন্যায্যমূল্য পাওয়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

এর প্রতিক্রিয়ায়, আসামি শাহিন মাহমুদ গত ১৫ নভেম্বর তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডি থেকে তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে শাহিন মাহমুদ লেখেন: ‘৮৮ কোটি টাকা দিয়ে বুলেটপ্রুফ গাড়ি না কিনে ওই টাকা কৃষকদের দিলে পেঁয়াজ, আলুর ন্যায্য দাম পেত।’

অভিযোগকারী ইলতুৎমিশ সওদাগর তাঁর আবেদনে দাবি করেন, আসামির এই পোস্টটি ‘কাণ্ডজ্ঞানহীন ও মিথ্যা’। এর মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গৌরব, সম্মান, দেশপ্রেম, রাজনৈতিক দূরদর্শিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার হীন প্রয়াসকে প্রস্ফুটিত করা হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও সামাজিক গৌরবকে কলুষিত করে আসামি উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করেছেন।

বাদী আরও জোরালোভাবে দাবি করেন, আসামির উল্লিখিত ‘৮৮ কোটি টাকার বিনিময়ে কোনো বিলাসবহুল বুলেটপ্রুফ গাড়ি কেনা হয়নি’। এ ধরনের অসত্য তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করায় সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫–এর ২৩ (২), ২৫(১), ২৭ (১) ও ২৭ (২) ধারায় অপরাধ হয়েছে।

সিদ্ধান্তের তাৎপর্য ও ভবিষ্যৎ প্রভাব

 

সাইবার ট্রাইব্যুনালের এই খারিজের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক সমালোচনার ক্ষেত্রে আইনি বিধিনিষেধের প্রয়োগ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালত মূলত যাচাই করেছেন যে, পোস্টটি নিছক রাজনৈতিক সমালোচনা নাকি বাস্তবিকই সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশের সংজ্ঞায় বর্ণিত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক বিতর্কমূলক পোস্ট বা অসত্য তথ্য প্রকাশ করলেই যে তা সাইবার সুরক্ষার অধীনে মামলাযোগ্য হবে না, এই রায়ের মাধ্যমে সে ইঙ্গিতই দেওয়া হলো।

এই সিদ্ধান্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এবং রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে একটি আলোচনা সৃষ্টি করবে, যেখানে আইনি কাঠামোতে মানহানি, সমালোচনার অধিকার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তার সংজ্ঞা আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণের প্রয়োজন দেখা দেবে।