
গাজীপুর কয়েল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে
গাজীপুর ফোকাস: শিল্পাঞ্চলে ফের অগ্নিকাণ্ড ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
গাজীপুর, ১৯ নভেম্বর ২০২৫ (bdnewsnetwork.com):
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালা এলাকায় স্ট্যান্ডার্ড ফিনিস অয়েল কোং (ইউনিট-২) বা ফিনিস কয়েল কারখানায় বুধবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা প্রাণপণ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও ভয়াবহতা
স্থানীয় ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে কয়েল তৈরির এই প্রতিষ্ঠানটির গুদামে প্রথম আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামে মজুত থাকা রাসায়নিক পদার্থ থেকেই এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।
কেরোসিনসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ মজুত থাকার কারণে আগুন দ্রুতই চরম ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং মুহূর্তের মধ্যেই কারখানার অন্যান্য স্থাপনায় ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, আশপাশের এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাণ বাঁচাতে মালামাল সরিয়ে অন্যত্র নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন। আগুনের তাপে পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের জানালা ও দরজার কাঁচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
হতাহতের খবর নেই, বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব
যদিও আগুনের তীব্রতা ছিল মারাত্মক, তবুও বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। কারখানার শ্রমিকেরা জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন আগুন লাগে, তখন দুপুরের খাবারের বিরতি চলায় অধিকাংশ শ্রমিক কারখানার বাইরে ছিলেন। যারা ভেতরে ছিলেন, তারা ফায়ার অ্যালার্ম বাজার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত নিরাপদে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ফলে শ্রমিকদের সময়মতো বের হয়ে যাওয়াতে একটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
শ্রমিক খায়রুল ইসলাম এবং নাইমুল ইসলাম জানান, আগুন প্রথমে গুদামে লাগলেও পরে পাশের টিনশেড ভবনে ছড়িয়ে যায়, যেখানে মূলত দোকানপাটে বিক্রির জন্য উপহারসামগ্রী রাখা ছিল।
ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা ও চ্যালেঞ্জ
আশপাশের লোকজন আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে জয়দেবপুর, রাজেন্দ্রপুর এবং শ্রীপুর স্টেশন থেকে মোট ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।
তবে কারখানা ও আশপাশের এলাকায় তীব্র পানিসংকট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ ব্যাহত হয়। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা নিরলস চেষ্টার পর বিকেল চারটার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে গুদামে রাসায়নিক থাকায় সম্পূর্ণভাবে নেভাতে আরও কিছু সময় লাগবে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের কাজ চলছে। কারখানা এবং আশপাশে পেট্রলপাম্প ও ঘনবসতি থাকায় এই অগ্নিকাণ্ড স্থানীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।


