সেন্ট মার্টিন স্পিডবোট ডুবিতে মা-মেয়ের করুণ মৃত্যু, শোকের ছায়া কক্সবাজারে

প্রকাশিত: 1:57 PM, December 1, 2025

সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ: স্পিডবোট ডুবে মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু, ৬ জন চিকিৎসাধীন; প্রথম দিনেই পর্যটন মৌসুমে বিপর্যয়

 

জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার। প্রকাশ: ১ ডিসেম্বর ২০২৫, [bdnewsnetwork.com]

বঙ্গোপসাগর থেকে: প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন থেকে টেকনাফ আসার পথে এক হৃদয়বিদারক স্পিডবোট ডুবির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গোপসাগরের গোলারচর সংলগ্ন এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। স্পিডবোটটিতে মোট ৮ জন যাত্রী ছিলেন। এই দুর্ঘটনার ফলে শীতকালীন পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিনেই সেন্ট মার্টিন এবং টেকনাফের উপকূলীয় অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত ও আহতদের পরিচয়: ডাক্তার দেখাতে গিয়েই মর্মান্তিক পরিণতি

 

নিহত দুই নারী হলেন সেন্ট মার্টিন ইউনিয়নের পূর্ব পাড়ার বাসিন্দা মরিয়ম আক্তার এবং তার শিশুকন্যা মাহিমা আক্তার। তাদের স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মরিয়ম আক্তার অসুস্থতা জনিত কারণে ডাক্তার দেখানোর উদ্দেশ্যে মেয়েকে নিয়ে টেকনাফ যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাদের সেই যাত্রা মাঝপথেই করুণ পরিণতি লাভ করে।

সোমবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে কিছুটা দূরে গোলারচর সংলগ্ন সাগরে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। দ্রুত খবর পেয়ে স্থানীয়রা সাগরে উদ্ধার অভিযানে নামেন এবং মুমূর্ষু অবস্থায় যাত্রীদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

চিকিৎসাধীন বাকি ৬ জন; ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

 

হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মা-মেয়ে, মরিয়ম আক্তার ও মাহিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। স্পিডবোটের অন্যান্য যাত্রীরা বর্তমানে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বাকি ৬ জন আহত যাত্রীর মধ্যে অন্তত ৩ জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকেরা তাদের সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছেন।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর ঢাকা পোস্টকে এই দুর্ঘটনার খবরটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “দুর্ঘটনায় পতিত স্পিডবোটের দুই যাত্রী (মা ও মেয়ে) মারা গেছেন। অন্যান্য যাত্রীদের চিকিৎসা চলছে। নিহতদের মরদেহ আমরা থানায় এনেছি। কীভাবে এবং কেন এই দুর্ঘটনা ঘটল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”

পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিনে উল্লাস, সন্ধ্যায় কান্না

 

উল্লেখযোগ্যভাবে, এই দুর্ঘটনার দিন অর্থাৎ সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকেই কক্সবাজার উপকূল থেকে চলতি মৌসুমের জন্য সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এদিন তিনটি জাহাজে করে মোট ১১৭৪ জন পর্যটক প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে ভ্রমণে গেছেন। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থাৎ দুই মাসের জন্য রাত্রিযাপনের উদ্দেশ্যে পর্যটকদের জন্য সেন্ট মার্টিন উন্মুক্ত থাকবে। পর্যটন মৌসুমের প্রথম দিনের এই উল্লাস ও বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন, দিনের শেষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবরে বিষাদে পরিণত হলো।

স্পিডবোট ডুবির কারণ সম্পর্কে এখনো নিশ্চিতভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে সমুদ্রের পরিস্থিতি বা স্পিডবোটের যান্ত্রিক ত্রুটি এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সমুদ্রপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।