গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দুই কলোনির ৭৫টি টিনশেড ঘর ভস্মীভূত, শত শত শ্রমজীবী পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশিত: 12:20 PM, December 1, 2025
https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: দুই কলোনির ৭৫টি টিনশেড ঘর ভস্মীভূত, শত শত শ্রমজীবী পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত

[bdnewsnetwork.com]

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় ৭৫টি টিনশেড ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এই কলোনি বাড়িগুলোতে মূলত স্থানীয় কারখানায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষেরা পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ৩০ নভেম্বর, ২০২৫, সোমবার সকাল ৮টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে, যার ফলে শত শত মানুষ তাদের শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।

শর্টসার্কিট থেকে সূত্রপাত, মুহূর্তে ছড়াল আগুন

 

ফায়ার সার্ভিস এবং প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বায়েজিদ হোসেন নামের এক ব্যক্তির মালিকানাধীন কলোনি বাড়িতে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। ধারণা করা হচ্ছে, কলোনির একটি কক্ষের বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের ফুলকি শুরু হয়। টিনশেড ঘরগুলো পাশাপাশি লাগানো এবং দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন মুহূর্তের মধ্যে পুরো কলোনিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

ভোরবেলা কাজ শুরুর আগে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার কলোনিতে থাকায় আগুনের সূত্রপাতের পরই এক বিশাল চাঞ্চল্য তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক চেষ্টা করলেও আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় তা দ্রুতই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

দুই কলোনিতেই ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি

 

আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই বায়েজিদ হোসেনের কলোনি থেকে লাগোয়া মহিউদ্দিন নামের আরেক ব্যক্তির মালিকানাধীন কলোনি বাড়িতেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে দুটি কলোনিতেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। কলোনির ভাড়াটিয়া শ্রমিক পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে তারা ঘর থেকে কোনো মূল্যবান সামগ্রী, এমনকি আসবাবপত্র বা পোশাকও বের করার সুযোগ পাননি। তাদের দাবি, দুটি কলোনির মিলে অন্তত ৭৫টি ঘর সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে। ঘরের ভেতরে থাকা টাকা, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, টিভি, ফ্রিজসহ যাবতীয় জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় কর্মজীবী পরিবারগুলো চরম সংকটের মুখে পড়েছে।

দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রায় দুই ঘণ্টা একটানা চেষ্টার পর সকাল ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা ইফতেখার রায়হান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে আশেপাশের অন্যান্য কাঠামোতে আগুন ছড়াতে পারেনি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণে ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তদন্তের পর ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব জানা যাবে।

কর্তৃপক্ষের ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পরবর্তী পদক্ষেপ

 

এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচএম ফখরুল ইসলাম এবং পৌরসভার সচিব জাহিদুল ইসলাম ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে কথা বলেন এবং তাদের সহায়তার আশ্বাস দেন।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো, যারা মূলত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে গাজীপুরের কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন, তারা এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে সম্পূর্ণভাবে নিঃস্ব। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সমাজসেবী ও জনপ্রতিনিধিরা। এটি কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এই অঞ্চলের হাজার হাজার শ্রমিকের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ টিনশেড আবাসনগুলোর মান উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তাকেও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।