পঞ্চগড়ে মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ট্রাকচালকসহ ৪ জন কারাগারে: বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের ঘটনায় চাঞ্চল্য

প্রকাশিত: 12:23 PM, November 20, 2025

পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে হৃদয়বিদারক ঘটনা: মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ

https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

bdnewsnetwork.com

পঞ্চগড়, বাংলাদেশ: দেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। প্রায় ২৮ বছর বয়সী (আনুমানিক) এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ট্রাকচালক ও তার সহকারীদের বিরুদ্ধে। এই ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে গতকাল, বুধবার সকালে তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশ এক ট্রাকচালকসহ মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে রাতে তাঁদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক অভিযুক্তদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের পরিচিত মুখ

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারী গত প্রায় ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এলাকায় ঘোরাফেরা করতেন। তিনি কথা বলতে পারলেও নিজের নাম-পরিচয় বা ঠিকানার বিষয়ে কিছুই জানাতে পারতেন না। ঘটনার পর পরই তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নারীর পরিচয় শনাক্তের জন্য ইতোমধ্যে সিআইডি (CID) ও পিবিআইয়ের (PBI) সহায়তা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনার বিবরণ এবং গ্রেপ্তার

 

জানা গেছে, গতকাল ভোরে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের প্রধান ফটকের বিপরীত দিকের একটি দোকানঘরের পেছনে এই দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীসহ স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং অভিযুক্ত চারজনকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন। প্রথমে তাঁদের স্থানীয় গ্রাম পুলিশের হাতে এবং পরে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চাদিনা-শিবগঞ্জ দক্ষিণপাড়া এলাকার ট্রাকচালক সোহেল শেখ (৩২) এবং তাঁর সহকারী (হেলপার) মোস্তফা হানিফ (২১)। বাকি দুজন হলেন বগুড়া সদর উপজেলার মানিকচক-উত্তরপাড়া এলাকার মো. হাসান (২০) ও একই উপজেলার নামুজা-ভান্ডারিপাড়া এলাকার রাজিবুল ইসলাম (১৯)। এরা সকলে বন্দরে পণ্য নিয়ে আসা ট্রাকের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে জানা যায়।

মামলা ও আদালতের নির্দেশ

 

এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বিকেলে বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশ মো. হাবিবুল্লা বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় ওই চারজনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তদের ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করে। একই সময়ে ধর্ষণের শিকার ওই নারীকেও আদালতের সামনে আনা হয়। আদালত শুনানি শেষে গ্রেপ্তারকৃত চারজনকেই কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুজ্জামান আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে প্রথম আলোকে মুঠোফোনে জানান, গ্রেপ্তারকৃত চার অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নারীর পরিচয় শনাক্তের প্রচেষ্টা জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাবান্ধা ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. বুলবুল বলেন, “মানসিক ভারসাম্যহীন এই নারী দীর্ঘদিন ধরে আমাদের এলাকার পথঘাটে বসবাস করছিলেন। গতকাল রাতে বন্দরে আসা ট্রাকচালক ও সহযোগীরা এই জঘন্য কাজ করেছেন বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন।”

এই ঘটনা আবারও সমাজে নারী নিরাপত্তা, বিশেষ করে অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত বিচার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সাধারণ মানুষ।