ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যার দায়ে সজীব ওয়াজেদ জয় ও জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে, জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
প্রকাশের তারিখ: ৪ ডিসেম্বর, ২০২৫, বৃহস্পতিবার | সময়: দুপুর ১:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক, bdnewsnetwork.com
জুলাই-আগস্ট মাসে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ‘গণহত্যা’ সংগঠনের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র এবং তার আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ও সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (Formal Charge) আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই গুরুতর মামলায় ট্রাইব্যুনাল সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর, ২০২৫) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে গঠিত বিচারিক প্যানেল এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ১০ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ট্রাইব্যুনালের আদেশ ও প্রসিকিউশনের তৎপরতা
এদিন, ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রবীণ প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তিনি আদালতের কাছে জোর আবেদন জানান, মামলাটির অন্যতম পলাতক আসামি সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে অবিলম্বে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হোক। প্রসিকিউটরের আবেদন মঞ্জুর করে আদালত জয়ের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউটর তামিম জানান, এই মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই ‘ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা’র দায়ে জয় ও পলকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হয়। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় তারা আসামিদের বিরুদ্ধে তৈরি করা বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদনটি হাতে পেয়েছেন। তদন্ত প্রতিবেদনে জুলাই-আগস্ট মাসের ঘটনাবলির সময় ইন্টারনেট বন্ধের ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা, যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা এবং এর সুযোগে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগের কেন্দ্রে ‘ইন্টারনেট বন্ধ’ এবং গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড
অভিযোগ অনুসারে, জুলাই-আগস্টের ওই সময়কালে সারা দেশে ইন্টারনেট ও অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশন অভিযোগ করেছে যে, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্তটি ছিল সুপরিকল্পিত এবং এটি ভিন্নমত দমন ও দেশব্যাপী গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং জরুরি সহায়তার জন্য যোগাযোগ করতে পারেননি। একইসঙ্গে, বহির্বিশ্ব থেকে ঘটনাগুলির প্রকৃত তথ্য যাচাই করাও কঠিন হয়ে পড়ে। সজীব ওয়াজেদ জয় এবং জুনায়েদ আহমেদ পলক, তৎকালীন সময়ে আইসিটি খাতের প্রধান নীতিনির্ধারক ও উপদেষ্টার অবস্থানে থাকায়, এই ‘গণহত্যামূলক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার’ জন্য সরাসরি দায়ী বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই মামলাটি দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক ইতিহাসে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার মতো কৌশলকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করার এই পদক্ষেপ বিশ্বের অনেক দেশের জন্য একটি উদাহরণ হতে পারে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ট্রাইব্যুনাল আগামী ১০ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন। এই সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মামলার অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে। মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। bdnewsnetwork.com মামলার প্রতিটি আপডেট জানাতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।


