
ঝুট ব্যবসায়ী মনির হত্যা মামলা: সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, কামরুল ইসলামসহ ৩ জন রিমান্ড শেষে কারাগারে
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, (bdnewsnetwork.com ডেস্ক)
ঢাকা: বহুল আলোচিত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির হত্যা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিমকে আজ বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম তাদের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ দেন।
আইনি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম খান আজ আদালতে তিন আসামিকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার জন্য আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আবেদনটি মঞ্জুর করেন। এর ফলে দেশের শীর্ষ পর্যায়ের এই তিন রাজনীতিবিদকে এখন বিচারাধীন অবস্থায় কারাবন্দী থাকতে হচ্ছে।
দীর্ঘ রিমান্ড পর্ব এবং আইনি কার্যক্রম
মামলাটির তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল। এই প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে এবং জনমনে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ১৮ জুন আদালত ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামকে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। সবশেষে, সাবেক সংসদ সদস্য সোলাইমান সেলিমকে ২০ অক্টোবর ৪ দিনের জন্য রিমান্ডে পেয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। এই দীর্ঘ সময় ধরে চলা রিমান্ডে তদন্ত কর্মকর্তারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করেছেন বলে জানা গেছে।
রিমান্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আজ তাদের আদালতে হাজির করা হয়। কামরুল ইসলামের পক্ষে আইনজীবী আফতাব চৌধুরী আদালতের কাছে জামিনের আবেদন করেন এবং তার মক্কেলকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আপত্তিতে এবং তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের ভিত্তিতে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার প্রেক্ষাপট ও জনসম্পৃক্ততা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, এই ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছর ৫ আগস্ট, যখন দেশে জুলাই আন্দোলন তুঙ্গে ছিল। নিহত ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির আন্দোলন চলাকালীন চানখাঁরপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে গুলিতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাত মাস পর গত ১৪ মার্চ মনিরের স্ত্রী শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দায়েরের পর থেকেই এটি দেশের রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। যেহেতু অভিযুক্তরা দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, তাই মামলাটির অগ্রগতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই মামলার চূড়ান্ত রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এই মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ এখনও ধার্য হয়নি। দেশের সর্বস্তরের জনগণের নজর এখন এই মামলার দিকে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মোড় এনে দিয়েছে।


