ককটেল ও অগ্নিসংযোগকারীদের ওপর সরাসরি গুলি: ডিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশ

প্রকাশিত: 7:43 PM, November 16, 2025

ককটেল ও অগ্নিসংযোগকারীদের ওপর সরাসরি গুলি: ডিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশ

https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

bdnewsnetwork.com

প্রকাশ: ১৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:৪০ PM

রিপোর্ট: নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা 


ডিএমপি কমিশনারের নির্দেশে নজিরবিহীন কঠোরতা: জননিরাপত্তা রক্ষায় সরাসরি গুলি

 

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা সাধারণ মানুষ, পুলিশ সদস্য এবং যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপ করবে, তাদের ওপর সরাসরি গুলিবর্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর, ২০২৫) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তিনি এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানান।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এই নির্দেশনা সম্পর্কে বলেন, “যারা মানুষ ও পুলিশ সদস্যদের ওপর ককটেল হামলা চালাবে এবং সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে আগুন দেবে, জনজীবনকে বিপন্ন করবে—আইনসম্মতভাবে তাদের প্রতিহত করতে গুলির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা করা এখন আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।”


অস্থির পরিস্থিতিতে পুলিশের অবস্থান: চট্টগ্রামেও একই বার্তা

 

ডিএমপি কমিশনারের এই নির্দেশনার মাত্র পাঁচ দিন আগে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনারও বেতারে কর্মকর্তাদের একই ধরনের কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন। এই দুটি বড় মহানগর পুলিশের প্রধানের কাছ থেকে এমন কঠোর নির্দেশনা আসায় দেশজুড়ে এক নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।

ডিএমপি’র একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রবিবার বিকেলে কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বেতার বার্তায় এই নির্দেশনাটি দেন। তাদের ভাষ্যমতে, শুধু ককটেল ও অগ্নিসংযোগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে হামলা, অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের প্রতিহত করতেও গুলি করার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের জন্য একটি চূড়ান্ত সতর্কতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


⚖️ আগামীকাল গুরুত্বপূর্ণ রায় ও রাজনৈতিক অস্থিরতা

 

এই কঠোর নির্দেশনার পটভূমি হলো আগামীকাল সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা। এই রায়কে কেন্দ্র করে কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ গত সপ্তাহে ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।

গত ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি ঘিরে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে, ট্রেনে অগ্নিসংযোগ এবং ককটেল বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। গতকাল শনিবার রাত থেকে আজ রোববার সকাল পর্যন্ত ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গাড়িতে আগুন দেওয়া এবং ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। এই সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঢাকাজুড়ে অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগের ১৮ জন নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে।

ডিএমপি কমিশনারের এই সরাসরি গুলি চালানোর নির্দেশনা জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতা কঠোরভাবে দমনের সরকারি নীতিরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এই নির্দেশনার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো, যা যেকোনো মূল্যে সহিংসতা দমনের বার্তা দিচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন পুলিশের মূল লক্ষ্য।