
চুয়াডাঙ্গায় যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার: পূর্ব শত্রুতার জেরেই হত্যাকাণ্ড, দাবি পরিবারের
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, পিএম প্রতিবেদক: নিজস্ব সংবাদদাতা প্রকাশিত: bdnewsnetwork.com
চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বেলগাছি গ্রামে এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর ২০২৫) ভোরে বেলগাছি গ্রামের ‘খরার মাঠ’ সংলগ্ন একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে সোহেল (২০) নামে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত যুবক পেশায় কৃষক এবং স্থানীয় বকচরপাড়ার বাসিন্দা। এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সরাসরি পূর্ব শত্রুতা এবং হত্যার হুমকি-কে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটনাটি সামনে এলো
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ মঙ্গলবার ভোরের দিকে বেলগাছি গ্রামের খরার মাঠে এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় কৃষকরা। এমন ভয়াবহ দৃশ্য দেখে সঙ্গে সঙ্গেই তারা চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল তৈরি করে এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
নিহত যুবক হলেন বেলগাছি গ্রামের বকচরপাড়ার আশরাফুল হকের ছেলে সোহেল (২০)।
পরিবারের অভিযোগ: পেয়ারা গাছের ডাল ভাঙা নিয়েই বিরোধ
নিহত সোহেলের পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সুনির্দিষ্ট কয়েকজনকে দায়ী করেছে। নিহতের বাবা আশরাফুল হক জানান, সম্প্রতি স্থানীয় তাহেরের ছেলে ফারুক এবং হারুনের সাথে সোহেলের একটি পেয়ারা বাগানের পেয়ারা গাছের ডাল ভাঙা কিংবা পেয়ারা খাওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। এই ছোটখাটো বিরোধের জের ধরে তাদের মধ্যে মারামারি হয়।
আশরাফুল হকের অভিযোগ অনুযায়ী, “এই দ্বন্দ্বের পরই ফারুক আমার ছেলেকে হত্যার হুমকি দেয়। আমরা মনে করছি, সেই পূর্ব শত্রুতার জেরেই ফারুক আমার ছেলেকে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে। আমি আমার ছেলের হত্যার কঠিন বিচার চাই।”
নিহতের ছোট ভাই জুয়েলও একই অভিযোগ করে বলেন, “সম্প্রতি ফারুকদের পেয়ারা বাগানের ডাল ভাঙা নিয়ে তারা আমার ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছিল। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে সে বাড়ি ফেরে। এর কিছুদিন পরই রাতের কোনো এক সময় ফারুক ও তার সঙ্গীরা আমার ভাইকে হত্যা করে ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রেখেছে।” জুয়েলও এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের পরিদর্শক খালেদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, “প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, পূর্ব বিরোধের জেরে সোহেলকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে যে অভিযোগগুলো এসেছে, আমরা তা গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
এদিকে, একই এলাকার বাসিন্দা ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মন্তব্য করেন, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা পূর্ব কোনো বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে পুলিশের নিবিড় তদন্তেই প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন হবে।
ঘটনাটি এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে জোরদার অভিযান শুরু করেছে।


