চট্টগ্রামে বিয়ের বৈঠকে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন: জমি বিরোধের জেরে মর্মান্তিক পরিণতি, আটক ১

প্রকাশিত: 1:24 PM, December 6, 2025

চট্টগ্রামে বিয়ের বৈঠকে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন: হাটহাজারীতে জমি বিরোধের মর্মান্তিক পরিণতি, প্রতিবেশী আটক

৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | bdnewsnetwork.com

চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ: চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় এক স্বজনের বিয়ের প্রস্তুতিমূলক সামাজিক বৈঠকে যোগ দিতে এসে ছুরিকাঘাতে খুন হলেন রবিউল ইসলাম বাবু (৪০) নামে এক ব্যক্তি। জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের মুছা সওদাগরের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিবেশী মো. জসীম উদ্দিন (৪৮)-কে পুলিশ আটক করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে, কারণ একটি সামাজিক আয়োজন মুহূর্তে শোকে পরিণত হয়েছে।


বিয়ের আনন্দ পরিণত হলো শোকের মাতমে

নিহত রবিউল ইসলাম বাবু নাজিরহাট ঘাট স্টেশন এলাকার একজন পরিচিত ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা জহুরুল হক কোম্পানির বড় ছেলে ছিলেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, শুক্রবার রাতে ওই বাড়িতে এক স্বজনের বিয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছিল। একটি উৎসবমুখর পরিবেশ হঠাৎ করেই নিদারুণ শোকে ঢেকে যায় যখন আলোচনায় বিয়ের প্রসঙ্গ ছাপিয়ে উঠে আসে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের পুরোনো বিবাদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈঠক চলাকালীন বাবু ও জসীম উদ্দিনের মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একই বাড়ির বাসিন্দা হওয়ায় তাদের মধ্যে আগে থেকেই এই বিষয়ে দ্বন্দ্ব ছিল। উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ের একপর্যায়ে মো. জসীম উদ্দিন আচমকা ঘর থেকে একটি ছুরি নিয়ে এসে রবিউল ইসলাম বাবুর গলায় আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় বাবু ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন।


পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ: অভিযুক্ত আটক

আহতের চিৎকারে উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পরপরই হাটহাজারী থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “জসীম তার জমি দাবি করে বিয়ের আলোচনার মধ্যে অপ্রাসঙ্গিকভাবে কথা শুরু করে। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে জসীম ঘর থেকে ছুরি এনে বাবুকে আঘাত করে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযুক্ত মো. জসীম উদ্দিনকে আটক করেছি এবং নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল কারণ ও অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


স্থানীয় সমাজে চাপা উত্তেজনা

এই ঘটনাটি এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর আশঙ্কা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। একটি পারিবারিক ও সামাজিক অনুষ্ঠানে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে যাওয়ায় এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর প্রশ্ন উঠেছে। নিহত রবিউল ইসলাম বাবুর পরিবার এবং স্থানীয় ব্যবসায়িক মহল এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন। জমি সংক্রান্ত ছোট বিরোধ কিভাবে একটি জীবন কেড়ে নিতে পারে, তা নিয়ে এখন সর্বত্র আলোচনা। স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ জানানো হয়েছে যাতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ঘটনার প্রেক্ষিতে, অভিযুক্ত মো. জসীম উদ্দিনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জসীম জমি বিরোধের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ এখন এই মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।