
জাপানে ভূমিকম্প!
প্রকাশ: ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, [bdnewsnetwork.com]
জাপানে ভূমিকম্প! একবার নয়, বারবার প্রকৃতির রুদ্ররূপের সাক্ষী হয়েছে সূর্যোদয়ের দেশ জাপান। সেই ধারাবাহিকতায়, অতিসম্প্রতি দেশটি আঘাত হানা এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিলো এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকি। রিখটার স্কেলে ৭.৫ থেকে ৭.৬ মাত্রার এই প্রলয়ঙ্কারী কম্পনে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন। এর পাশাপাশি, উত্তরাঞ্চলীয় আওমোরি ও হোক্কাইডো অঞ্চলের ২ হাজার ৭০০-এরও বেশি বাড়িঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।
প্রলয়ের উৎপত্তিস্থল ও প্রাথমিক সতর্কতা
বিবিসি এবং জাপানের আবহাওয়া সংস্থার (JMA) প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তরাঞ্চলীয় হনশু দ্বীপের আওমোরি জেলার উপকূল থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে, এবং তা সমুদ্রের তলদেশের ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল গভীর সমুদ্রে হওয়ায় প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল জাপানের আবহাওয়া দপ্তর। আওমোরি ও হোক্কাইডোর কিছু অংশে প্রায় ৭০ সেন্টিমিটার (২৭ ইঞ্চি) উঁচু ঢেউ দেখা যাওয়ার পর দ্রুত উপকূলীয় এলাকার কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরে অবশ্য সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, যা উপকূলের মানুষের জন্য খানিক স্বস্তি এনেছে।
জরুরি তৎপরতা ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
ভূমিকম্পের পর পরই সরকার দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেছে। জাপানের প্রধান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন এবং জরুরি দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। আঘাত হানার পরপরই ইস্ট জাপান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু রুটে ট্রেন চলাচল স্থগিত করে দেয়।
তবে স্বস্তির খবর হলো, তোহোকু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানির হিগাশিদোরি ও ওনাগাওয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিংবা ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা শনাক্ত হয়নি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পরবর্তী কম্পনের সতর্কবার্তা
জাপানের ভূতত্ত্ববিদ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সাধারণ জনগণকে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প বা আফটারশক (Aftershock) অনুভূত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী সানে তাকাইচি ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের উদ্দেশে বলেছেন, “আপনারা সবাই সামনের কয়েক দিন সতর্ক থাকবেন। কম্পন অনুভূত হওয়ামাত্র যেন তাৎক্ষণিকভাবে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারেন, সেই প্রস্তুতি রাখবেন।”
ভূমিকম্পের জন্য জাপান পৃথিবীর অন্যতম ভূকম্পনপ্রবণ দেশ। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ (Ring of Fire) অঞ্চলে অবস্থিত। এই অঞ্চলে বছরে গড়ে প্রায় ১৫০০টি ছোট-বড় ভূমিকম্প হয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এই অঞ্চলে আগামী ৩০ বছরের মধ্যে আরও বড় আকারের ভূমিকম্প হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ঘটনা আবারও জাপানের মতো একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশের জন্য দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থায়ী প্রস্তুতি ও সতর্কতার গুরুত্বকে তুলে ধরল।


