গাজীপুরে কৃষক মনির মোল্লাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা: দুই পা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: 11:25 AM, December 7, 2025

গাজীপুরে কৃষক হত্যা;

প্রকাশের তারিখ: ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫  ওয়েবসাইট: bdnewsnetwork.com


গাজীপুরে কৃষক হত্যা; গাজীপুরের কালীগঞ্জে ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে মনির মোল্লা (৫০) নামে এক কৃষককে, যার মরদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে তাঁর দুই পা। গতকাল শনিবার (৬ ডিসেম্বর, ২০২৫) সন্ধ্যার পর উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের পারাবর্তা এলাকা থেকে তাঁর বিকৃত মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে

নিহত কৃষক মনির মোল্লা পারাবর্তা এলাকার মৃত হাশেম মোল্লার ছেলে। তিনি পেশায় একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন এবং এলাকায় শান্তিপ্রিয় মানুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন।

নৃশংস হত্যাকাণ্ড: যেভাবে মরদেহ উদ্ধার হলো

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল সন্ধ্যায় পারাবর্তা এলাকার বন বিভাগের খোলা জায়গায় স্থানীয় কিছু লোক একটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে তাঁরা ভয়ে কেউ কাছে যেতে সাহস পাচ্ছিলেন না। পরে কিছুটা সাহস সঞ্চয় করে কাছে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, এটি স্থানীয় কৃষক মনির মোল্লার মরদেহ এবং অত্যন্ত বীভৎস অবস্থায় রয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর শরীর ক্ষতবিক্ষত, এবং সবচেয়ে ভয়াবহ হলো—শারীর থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে আছে তাঁর দুটি পা।

সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজন উলুখোলা পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন। পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। স্থানীয় লোকজনই নিহত ব্যক্তিকে তাঁর পোশাক ও শারীরিক গড়ন দেখে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ও তদন্ত

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত নৃশংসভাবে ঘটানো হয়েছে। কালীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুর্বৃত্তরা অত্যন্ত ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, অন্য কোথাও নয়, বরং ঘটনাটি ঘটনাস্থলেই ঘটানো হয়েছে। দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাঁকে নির্মমভাবে কুপিয়েছে এবং পরে তাঁর দুই পা কেটে ফেলে। হত্যার পর পরই দুষ্কৃতকারীরা ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

তবে কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, এবং এর পেছনে কী কারণ থাকতে পারে—সে সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হতে পারেনি। এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

⚖️ বিচারিক প্রক্রিয়া ও স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠিয়েছে। পরিদর্শক (তদন্ত) আশরাফুল ইসলাম আরও জানান, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি এবং এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপরাধীদের চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।”

এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। একজন সাধারণ কৃষককে এত নির্মমভাবে কুপিয়ে এবং তাঁর পা বিচ্ছিন্ন করে হত্যার ঘটনায় এলাকার মানুষজন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তাঁরা দ্রুত এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ কী?

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত আক্রোশ, জমি সংক্রান্ত বিরোধ, নাকি অন্য কোনো গুরুতর কারণ লুকিয়ে আছে—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। পুলিশি তদন্তের পরই এই রহস্যের জট খুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।