
ঝিনাইদহ: [০৪ ডিসেম্বর ২০২৫] [bdnewsnetwork.com] – ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পবাহাটির ঈদগাপাড়ায় এক হৃদয় বিদারক ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর প্রতিবেশীর ঘরের খাটের নিচ থেকে ৪ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত শিশুর নাম সাইমা আক্তার, সে ওই গ্রামের ভ্যানচালক সাইদুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনার পরপরই প্রতিবেশীর স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
নিখোঁজ থেকে মর্মান্তিক পরিণতি
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সাইমা আক্তার গত বুধবার (০৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল থেকেই নিখোঁজ ছিল। শিশুটির বাবা সাইদুল ইসলাম সকালে ভ্যান নিয়ে কাজে যাওয়ার আগে মেয়েকে একটু ঘুরিয়ে নামিয়ে দেন। সাইমা তখন মাকে বলে, “আম্মু, তুমি ভাত রান্না করো। রান্না শেষে আমাকে ডাক দিয়ো, আমি বাইরে খেলছি।” এরপরই সাইমা উধাও হয়ে যায়।
সারা দিন ধরে শিশুটিকে না পেয়ে তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন আশপাশের পুকুর, বাড়িঘর ও সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। মাইকিং করেও কোনো ফল মেলেনি। বাবা সাইদুল ইসলাম পরে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
প্রতিবেশীর বাড়িতে সন্দেহ, খাটের নিচে মরদেহ
সাইমা নিখোঁজের পর যখন গোটা গ্রাম তোলপাড়, তখন বাবা সাইদুল ইসলামের সন্দেহ হয় প্রতিবেশী আক্তারুজ্জামান মাসুদের স্ত্রী সান্ত্বনা খাতুনের (৩২) আচরণে। সাইদুল ইসলাম জানান, তিনি মেয়েকে খুঁজতে মাসুদের বাড়ির দোতলায়ও গিয়েছিলেন, তখন সান্ত্বনা তাকে জানিয়েছিলেন যে সাইমা তাদের বাড়িতে আসেনি। কিন্তু নিখোঁজ শিশুকে খুঁজতে যখন সবাই ব্যস্ত, তখন সান্ত্বনা খাতুনের নির্লিপ্ততা তার মনে সন্দেহের জন্ম দেয়।
সাইদুল ইসলামের ভাষ্যমতে, গভীর রাতে তিনি পুকুরপাড়ে আবার যান। সে সময় তিনি দেখেন সান্ত্বনা খাতুন একটি বস্তা নিয়ে কোথাও যাচ্ছেন। সাইদুল চিৎকার করে উঠলে তিনি দৌড়ে ঘরে চলে যান। এরপরই বিষয়টি তিনি পুলিশকে জানান।
পুলিশের তৎপরতা ও তদন্তের আশ্বাস
খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রতিবেশীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং সান্ত্বনা খাতুনের ঘরের খাটের নিচ থেকে নিখোঁজ শিশু সাইমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন জানান, শিশুটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিভিন্ন স্থানে সন্ধান চালাচ্ছিল। রাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে মৃতদেহ উদ্ধারের খবর আসে। ঘটনার কারণ এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না, তবে তদন্ত চলছে। অভিযুক্ত নারী সান্ত্বনা খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো সম্ভব হবে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করছে।


