পদ্মা সেতুর হাত ধরে: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পর্যটকদের ঢল, ভিসা জটিলতা কমানোর দাবি

প্রকাশিত: 2:00 PM, November 20, 2025

পদ্মা সেতুর হাত ধরে: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পর্যটকদের ঢল, ভিসা জটিলতা কমানোর দাবি

https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

 

ঢাকা: ২০ নভেম্বর, ২০২৫ (bdnewsnetwork.com)

পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এখন পর্যটন শিল্পে এক নতুন প্রাণশক্তি লাভ করেছে। রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে কুয়াকাটা, সুন্দরবন এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোতে ভ্রমণকারীদের সংখ্যা বেড়েছে বহু গুণ। পর্যটনের এই অভূতপূর্ব উত্থানকে স্থায়ী ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

অর্থনীতির নতুন কেন্দ্র: দক্ষিণ-পশ্চিম

 

এক দশক আগেও ঢাকা থেকে এই অঞ্চলের মূল পর্যটন স্পটগুলোতে পৌঁছাতে ১২ থেকে ১৮ ঘণ্টা সময় লাগত। পদ্মা সেতু সেই সময়কে প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। এই দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এখন ছুটির দিনগুলোতে কুয়াকাটা এবং বরিশালের বিভিন্ন রিসোর্ট এবং হোটেলে তিল ধারণের ঠাঁই থাকছে না।

পর্যটন অর্থনীতিবিদদের মতে, পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে দেশের নতুন অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার ক্ষমতা রাখে। স্থানীয় হোটেল, রেস্তোরাঁ, এবং হস্তশিল্প ব্যবসায়ীরা গত দুই বছরে উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেছেন। পরিসংখ্যান বলছে, কুয়াকাটায় হোটেল বুকিং গত বছরগুলোর তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

আন্তর্জাতিক পর্যটনে অন্তরায় ভিসা জটিলতা

 

দেশের অভ্যন্তরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও, বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে আছে। বিশেষ করে প্রতিবেশী এবং পশ্চিমা দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের জন্য বাংলাদেশে ভ্রমণ ভিসা প্রাপ্তিতে যে দীর্ঘসূত্রতা এবং জটিলতা রয়েছে, তা বৈশ্বিক পর্যটন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

“বিদেশি পর্যটকদের জন্য অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ আরও উদার করা উচিত। যারা মাত্র ৩-৫ দিনের জন্য সুন্দরবন বা দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে আসতে চান, তাদের জন্য মাসের পর মাস ভিসা প্রসেসিং-এর জন্য অপেক্ষা করা সম্ভব নয়। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া বা ভিয়েতনামের মতো দেশগুলো দ্রুত ভিসা প্রদানের মাধ্যমে যেভাবে পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিয়েছে, আমাদেরও সেই পথে হাঁটতে হবে।” — বাংলাদেশ ট্যুরিজম ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিডিএ) সভাপতি বলেন।

এছাড়া, সুন্দরবন বা অন্যান্য সংরক্ষিত এলাকায় পরিবেশবান্ধব পর্যটনের (Eco-Tourism) জন্য ইচ্ছুক বিদেশি গবেষক ও ভ্রমণকারীদের ভিসা দ্রুত অনুমোদনের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে।

সুযোগকে কাজে লাগানোর রোডম্যাপ

 

এই সম্ভাবনাকে সফল করতে হলে সরকারের পক্ষ থেকে একটি সুসংগঠিত রোডম্যাপ প্রয়োজন।

১. ভিসা ও ইমিগ্রেশন সংস্কার: আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে অনলাইনে দ্রুত ভিসা প্রদানের ব্যবস্থা করা এবং নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য শর্তসাপেক্ষে অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত করা। ২. যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: শুধু সড়ক নয়, কুয়াকাটা পর্যন্ত দ্রুতগতির রেল সংযোগ স্থাপন এবং অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন জরুরি। ৩. নিরাপত্তা ও মান: বিদেশি পর্যটকদের জন্য সর্বক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব হোটেলে বিশ্বমানের সেবা প্রদান নিশ্চিত করা। ৪. প্রচারণা: আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলাগুলোতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই নতুন যোগাযোগ সুবিধার বিষয়টি ব্যাপকভাবে তুলে ধরা।

যদি সরকার এবং বেসরকারি উদ্যোগগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে, তবে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে সৃষ্ট এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল খুব দ্রুতই দেশের অর্থনীতিতে ১.৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অবদান রাখার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। দেশের পর্যটন শিল্পে এই মুহূর্তে এর চেয়ে বড় কোনো আলোচনার বিষয় নেই।