
বিশাল অজগর: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে গাছের ডালে চাঞ্চল্য, সুরক্ষাবেষ্টনী তৈরি করল পুলিশ
প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম [bdnewsnetwork.com]
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়ার ভাসানীপাড়ায় একটি গাছের ডালে প্রায় ৯ ফুট লম্বা একটি বিশাল অজগরের উপস্থিতিতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে মাঠের কাজে ব্যস্ত স্থানীয়রা সাপটি দেখতে পেয়ে দ্রুত খবর দিলে পুলিশ এবং বন বিভাগ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর বন্যপ্রাণীটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাসানীপাড়ার মাঠে কাজ করছিলেন বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী। দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই তাঁরা গাছের ডালে বিশাল আকারের অজগরটি ঝুলে থাকতে দেখেন। এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে শত শত উৎসুক জনতা সেখানে ভিড় করে। অজগরের আকার দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, কারণ এই অঞ্চলে এত বড় সাপ সচরাচর দেখা যায় না।
পুলিশ, বন বিভাগ ও সাপুড়ের যৌথ অভিযান
খবর পেয়ে দ্রুত ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে বন বিভাগ এবং সমাজসেবা বিভাগের কর্মকর্তারাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। স্থানীয়দের ভিড় সামাল দেওয়া এবং সাপের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পুলিশকে হিমশিম খেতে হয়। জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সাপটির চারপাশে একটি নিরাপদ বেষ্টনী তৈরি করতে হয়।
এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্ধার অভিযানে বলদিয়া বাজারের অভিজ্ঞ সাপুড়ে মোজাহারও অংশ নেন। পুলিশ, বন কর্মকর্তা এবং সাপুড়ের যৌথ প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত অজগরটিকে নিরাপদে গাছ থেকে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়।
ভারত থেকে বন্যার জলে ভেসে আসার ধারণা
ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুনতাসির মামুন অজগরটির সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের কালজানী নদী দিয়ে কাঠসহ বিভিন্ন ধরনের ভাসমান বস্তু ভেসে এসেছে। প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময়ে ভেসে আসা কোনো গাছের ডাল বা গুড়ির সঙ্গে জড়িয়েই অজগরটি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের এই পারে চলে এসেছে।
এএসপি মামুন বলেন, “অজগরটি উদ্ধারের পর বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী এটিকে দ্রুত বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা ধারণা করছি, এটি ভারত থেকে ভেসে এসেছে।”
বন বিভাগের কর্মকর্তারা অজগরটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন। তাঁরা নিশ্চিত করেছেন যে, সাপটির শারীরিক অবস্থা এখন ভালো আছে এবং এটি সম্পূর্ণ সুস্থ। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণের পর অজগরটিকে যত দ্রুত সম্ভব তার উপযুক্ত নিরাপদ বন্য পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হবে। এই উদ্ধার অভিযানটি কুড়িগ্রাম অঞ্চলে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তার গুরুত্ব সম্পর্কে নতুন করে সচেতনতা তৈরি করল।


