মর্মান্তিক: কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় পুকুরে ডুবে মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোনের করুণ মৃত্যু

প্রকাশিত: 6:15 PM, November 15, 2025

প্রতিবেদন

https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

 

কক্সবাজার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫: (বিডি নিউজ নেটওয়ার্ক ডেস্ক)

পর্যটন নগরী কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় এক মর্মান্তিক পুকুরে ডুবে মৃত্যুতে মামাতো-ফুফাতো দুই ভাই-বোনের করুণ পরিণতি হলো। আজ শনিবার (১৫ নভেম্বর, ২০২৫) সকালে কৈয়ারবিল ইউনিয়নের বড় মৌলভিপাড়া গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। শিশু দুটি খেলতে গিয়ে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায় এবং মুহূর্তেই তাদের জীবনাবসান হয়। এই ঘটনায় গোটা কুতুবদিয়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

মারা যাওয়া শিশুরা হলো কক্সবাজার পৌরসভার চরপাড়ার বাসিন্দা ইলিয়াসের এক বছর বয়সী ছেলে আবদুল্লাহ এবং রামুর গর্জনিয়া ইউনিয়নের বড় বাগছড়ির কবির আহমদের আট বছর বয়সী মেয়ে জোসনা বেগম। সম্পর্কে তারা মামাতো-ফুফাতো ভাই-বোন।

কীভাবে ঘটলো মর্মান্তিক দুর্ঘটনা?

 

স্থানীয় পুলিশ ও নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের সূত্রে জানা যায়, আবদুল্লাহর বাবা ইলিয়াস ও মা আমেনা বেগম পেশাগত কারণে কুতুবদিয়ায় শুঁটকি শুকানোর কাজে নিয়োজিত। কাজের সুবিধার্থে তারা বড় মৌলভিপাড়ায় অবস্থান করছিলেন এবং জোসনাও তাদের সঙ্গেই থাকতো। প্রতিদিনের মতো আজ সকালেও ইলিয়াস ও আমেনা বেগম তাদের একমাত্র সন্তান আবদুল্লাহ ও জোসনাকে বাড়িতে রেখে শুঁটকি মহালে কাজে গিয়েছিলেন।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশু দুটি বাড়ির আশেপাশে খেলা করছিল। খেলতে খেলতেই ছোট শিশু আবদুল্লাহ অসাবধানতাবশত বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। ছোট ভাইকে পানিতে পড়ে যেতে দেখে আট বছর বয়সী জোসনা বেগম তাকে বাঁচাতে বিন্দুমাত্র দেরি না করে সঙ্গে সঙ্গেই পুকুরে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু বয়সে ছোট এবং সাঁতার না জানায় জোসনা আর আবদুল্লাহকে নিয়ে পুকুরের কূলে উঠে আসতে পারেনি। এটি ছিল এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য—অল্প বয়সেই বড় বোনের মমত্ববোধে ভাইটিকে বাঁচানোর চেষ্টা।

অনেকক্ষণ ধরে তাদের দেখতে না পেয়ে স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করে এবং এক পর্যায়ে তাদের দুজনকে পুকুরের পানিতে ভাসতে দেখে। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাগ্য বিরূপ ছিল, সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এলাকায় শোকের মাতম

 

এই আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক মৃত্যুতে বড় মৌলভিপাড়া গ্রাম এবং নিহত শিশুদের নিজ গ্রামে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মীর কাশেম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “পুকুরে ডুবে এই দুই শিশুর মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। মামাতো-ফুফাতো এই ভাই-বোনের লাশ পরিবারের সদস্যরা তাদের নিজ নিজ গ্রামে নিয়ে গেছেন দাফনের জন্য।”

কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। যেহেতু পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো অভিযোগ নেই, তাই আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুই শিশুর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এটি সত্যিই একটি অত্যন্ত করুণ দুর্ঘটনা।”

অসাবধানতাবশত পুকুর বা ডোবার ধারে শিশুদের খেলার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার গুরুত্ব এই ঘটনাটি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিল। এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কারো কাম্য নয়। নিহত শিশুদের আত্মার শান্তি কামনা করছে বিডি নিউজ নেটওয়ার্ক পরিবার।