ফরিদপুরে দুই মহাসড়ক অবরোধ: টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-খুলনা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, ভোগান্তিতে হাজারো যাত্রী

প্রকাশিত: 12:48 PM, November 13, 2025

নিজস্ব প্রতিবেদক, bdnewsnetwork.com

 

ফরিদপুর। আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৩০ (সময় অনুমানিক)

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় আগুন জ্বালিয়ে ঢাকা-খুলনা এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে অবরোধ সৃষ্টি করা হয়। এই আকস্মিক অবরোধের ফলে দক্ষিণবঙ্গের সাথে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জনজীবনে ও পণ্য পরিবহনে।

আওয়ামী লীগের অনলাইনে ঘোষিত ‘লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা প্রথমে ভাঙ্গার সোয়াদী ও পুলিয়া এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। অবরোধকারীরা মহাসড়কের ওপর টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং মুহূর্তের মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

 

দুই মহাসড়কে ব্যাপক যানজট ও জনভোগান্তি

 

অবরোধের ফলে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গার মনসুরাদাবাদ এলাকা থেকে শুরু করে দীর্ঘ এলাকাজুড়ে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস এবং ব্যক্তিগত যানবাহন আটকা পড়ে। একই চিত্র দেখা যায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুর এলাকায়ও। দক্ষিণবঙ্গের বরিশাল, খুলনা, যশোর, গোপালগঞ্জ, পিরোজপুর, এবং অন্যান্য জেলাগুলোর সাথে ঢাকার যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় হাজারো যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন।

বিশেষ করে, দূরপাল্লার যাত্রীরা, যাদের মধ্যে নারী, শিশু এবং অসুস্থ ব্যক্তিরা ছিলেন, তারা দীর্ঘ সময় ধরে সড়কের ওপর আটকা পড়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। জরুরী ভিত্তিতে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহনগুলোও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারায় অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পরিস্থিতি এতটাই নাজুক ছিল যে পায়ে হেঁটেও সড়ক পার হওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের মধ্যে ভিন্নতা

 

ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাধবপুরে অবরোধকারীরা বড় ধরনের কোনো অবরোধ সৃষ্টি করতে পারেনি। তবে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পুলিয়া এলাকায় অবরোধ করা হলেও পুলিশের দ্রুত হস্তক্ষেপে তা এক ঘণ্টার মধ্যেই অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ অবরোধ সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে নিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্যের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অবরোধকারীরা সড়ক এবং এর আশপাশের এলাকায় শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন, যার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে বেশ সময় লাগে।

 

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও অবরোধ প্রত্যাহার

 

সকাল গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জোরদার তৎপরতা শুরু করে। সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সেনাসদস্যরা পুখড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেন। এর অল্প কিছুক্ষণ পর, অর্থাৎ সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গার মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পুলিশ এবং র‍্যাব সদস্যরা যৌথ অভিযান চালিয়ে অবরোধকারীদের সরিয়ে দিতে সক্ষম হন।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যদিও প্রধান পয়েন্টগুলো থেকে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও সকালের দিকে ভাঙ্গার সোয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবরোধকারীরা মহাসড়কেই অবস্থান নিয়ে ছিলেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঐ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। সড়কের ওপর জমে থাকা টায়ারের আগুন ও অন্যান্য আবর্জনা পরিষ্কার করার কাজও দ্রুত গতিতে শুরু করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকার পর যান চলাচল পুনরায় শুরু হতে পারে।

এই ঘটনা আবারও রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় যে তীব্র ভোগান্তি নেমে আসে, সেই প্রশ্নটিকে সামনে এনেছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে এবং সড়কে যানজট নিরসন হতে দুপুর গড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।