
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, বাস্তবায়ন করবে অন্তর্বর্তী সরকার ছয়টি কমিশনের সুপারিশ করা সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর সংলাপ শেষে রাজনৈতিক দলগুলো “জুলাই সনদ” স্বাক্ষর করবে। অন্তর্বর্তী সরকার এই সনদের কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে, আর বাকিগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকারের ওপর।
আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন “রাইট টু ফ্রিডম”-এর প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম বি মাইলাম প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক জন ড্যানিলোউইচও উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বৈঠকের বিষয়ে জানানো হয়েছে।
বৈঠকে উইলিয়াম বি মাইলাম ও জন ড্যানিলোউইচ অধ্যাপক ইউনূসকে “রাইট টু ফ্রিডম”-এর কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে সহায়তার জন্য তাদের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। অধ্যাপক ইউনূস তাদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, সংলাপ শেষে রাজনৈতিক দলগুলো “জুলাই চার্টার” স্বাক্ষর করবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা দেবে।
তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যদি নির্বাচনের আগে সীমিত সংস্কারে সম্মত হয়, তবে জাতীয় নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে, অন্যথায় আগামী বছরের জুনের মধ্যে ভোট গ্রহণ করা হবে।
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলার দৈনিক ইনকিলাবের সংবাদদাতা মো. হেলাল উদ্দিনের ওপর হামলার চেষ্টা চালায় একটি সন্ত্রাসী চক্র। জনতার সাহসিকতায় প্রাণে রক্ষা গতকাল ৬ মার্চ নিকলী উপজেলার হলরুমে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসকের মতবিনিময় সভা শেষে বিকেলে নানশ্রী গ্রামের নিজ বাড়িতে ফেরার পথে ঘটনাটি ঘটে। কারপাশা গ্রামের আব্দুল হামিদ সড়কের পাশে দেলোয়ারের দোকানের সামনে শতাধিক লোকের জটলা দেখতে পান তিনি।
এসময় কয়েকজন মাইক হাতে এসে তাকে থামতে বলেন এবং জানান, “সাংবাদিক ভাই, দাঁড়ান। এখানে একজন প্রতারককে আটক করা হয়েছে। জনতা তাকে মারধর করতে চাইছে, আপনি উপস্থিত থাকলে হয়তো কেউ তাকে মারতে সাহস পাবে না।”
সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন বিষয়টি জানতে চাইলে উপস্থিত লোকজন পুরো ঘটনা ব্যাখ্যা করতে শুরু করে, যার মধ্যে ছিলেন কারপাশা ও নিকলী সদর এলাকার বিকাশ ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যেই দেলোয়ারের দোকানের সামনে উত্তেজনা বাড়তে থাকে, এবং চারদিকে প্রতারক আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও মানুষ সেখানে ভিড় জমায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছিলেন ইনকিলাবের এই সাংবাদিক। ঠিক তখনই কারপাশা ইউনিয়নের শান্তিপুর গ্রামের বাচ্চু মিয়ার ছেলে পিয়াস ও তার বাবা বাচ্চুসহ কয়েকজন তার দিকে তেড়ে আসে এবং তাকে ধরার চেষ্টা করে। উপস্থিত জনতা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিহত করে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ছিল পরিকল্পিত হামলার অংশ।
সম্প্রতি ইনকিলাব পত্রিকায় সিংপুর ধনু নদীতে চাঁদাবাজি, যাত্রাপালা বন্ধের ডাক, রাতের বেলা বালু উত্তোলন ও নদী দখল সংক্রান্ত একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলে কিছু মহলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। মনে করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিককে টার্গেট করে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তদন্তে জানা যায়, পিয়াস একজন চিহ্নিত আওয়ামী লীগপন্থী মাস্তান এবং মাদক ব্যবসায়ী। তার অত্যাচারে স্থানীয়রা মুখ খুলতে ভয় পান। জমি দখল, ভাড়াটে সন্ত্রাসী হিসেবে কাজ করাই তাদের মূল পেশা। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, শান্তিপুর গ্রামে এ চক্রের আধিপত্য বজায় থাকে।
পিয়াস কারপাশা মুচিবাড়ির চুলাই মদের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠে। ঘটনার পরপরই নিকলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী আরিফ উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ৭ মার্চ থানায় ২ জনের নাম উল্লেখ করে ও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। থানার ওসি নিজেই অভিযোগ গ্রহণ করেন এবং তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।


