ডিসেম্বর থেকে মার্চের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে

প্রকাশিত: 6:49 PM, March 9, 2025

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন ২০২৫  অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ভর করবে সরকারের গৃহীত প্রয়োজনীয় সংস্কার কর্মসূচির বাস্তবায়নের ওপর, যা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য অপরিহার্য। ঢাকায় ড. ইউনূসের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বিবিসির দক্ষিণ এশিয়া সংবাদদাতা সামিরা হুসেইন। ইংরেজি সাক্ষাৎকারটি বৃহস্পতিবার বিবিসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় এবং সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস তা বাংলায় অনুবাদ করে। বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন 2025

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন হলে ডিসেম্বরেই নির্বাচন হতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার প্রক্রিয়া প্রয়োজন হলে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর যখন তাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে বলা হয়, তখন তিনি হতচকিত বোধ করেন। তিনি কখনো ভাবেননি যে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। প্রশাসনিক দায়িত্বে আগে না থাকায় সঠিকভাবে পরিচালনার উপায় খুঁজে নিতে হয়েছিল। আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং অর্থনীতি পুনর্গঠন তার মূল অগ্রাধিকার ছিল।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাসিত শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ঢাকায় সরকারি বাসভবনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, আওয়ামী লীগ সিদ্ধান্ত নেবে তারা নির্বাচনে অংশ নেবে কি না। নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ইউনূস বলেন, শান্তি ও শৃঙ্খলা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, পাশাপাশি অর্থনীতি। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম বিপর্যস্ত, যা গত ১৬ বছর ধরে চলমান এক বিশাল ধ্বংসযজ্ঞের ফল। তিনি বলেন, আমরা বিশৃঙ্খলা থেকে বেরিয়ে আসছি এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ করছি।

গত গ্রীষ্মে বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া সহিংস বিক্ষোভের প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, মানুষকে গুলি করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে। সাত মাস পরও ঢাকার বাসিন্দারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। এ বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, উন্নতি আপেক্ষিক বিষয়। আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা সহনীয় মনে হতে পারে, তবে এখন যা ঘটছে, তা বাংলাদেশের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতার অংশ।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন যে বাংলাদেশ তাদের জন্য নিরাপদ নয়। এ বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, আদালত, আইন ও থানার ব্যবস্থা রয়েছে। অভিযোগ থাকলে সেগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো উচিত। কেবল সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ জানানো যথেষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সাহায্য কমানোর ফলে বাংলাদেশের ওপর কী প্রভাব পড়বে, সে বিষয়ে ড. ইউনূস বলেন, এটি তাদের সিদ্ধান্ত। যুক্তরাষ্ট্র দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং অন্যান্য বিষয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা বাংলাদেশকেও সহায়তা করছে। তবে বৈদেশিক সাহায্যের ঘাটতি মোকাবিলা করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাজনৈতিক দলগুলো যদি কম সংস্কারে সম্মত হয়, তাহলে নির্বাচন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে অধিক সংস্কার প্রয়োজন হলে নির্বাচন ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইট টু ফ্রিডমের সভাপতি রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম এবং নির্বাহী পরিচালক জন দানিলোভিচ ঢাকায় ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে তারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সংস্থাটির ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করেন। অধ্যাপক ইউনূস সংস্থাটির কাজের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশে মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষায় তাদের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান।

মাইলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একটি বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ছয়টি কমিশনের প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে চলমান সংলাপের পর রাজনৈতিক দলগুলো একটি ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করবে। অন্তর্বর্তী সরকার এর কিছু সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে, আর বাকিগুলো ভবিষ্যৎ সরকার বাস্তবায়ন করবে। বৈঠকে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, চুরি হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার, সার্ক পুনর্জীবিতকরণ এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী জানিয়েছেন, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৫০০ জনকে পুলিশ সহায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঢাকার বিভিন্ন শপিংমল ও এলাকাভিত্তিক প্রাইভেট নিরাপত্তাব্যবস্থায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পুলিশ সহায়ক হিসেবে এক মাসের জন্য নিয়োগ দেওয়া হবে। তারা পুলিশের মতোই দায়িত্ব পালন করবেন এবং অপরাধী গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও পাবেন।

পুলিশে সহায়ক হিসেবে যোগ দিচ্ছেন ৫০০ জন: ডিএমপি কমিশনার