পতিত স্বৈরাচার নৈরাজ্য সৃষ্টিতে বিপুল অর্থ ঢালছে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত: 9:44 PM, March 8, 2025

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, দেশের পতিত স্বৈরাচার নৈরাজ্য সৃষ্টির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করছে। পতিত স্বৈরাচার নৈরাজ্য সৃষ্টি তিনি বলেন, “আমাদের এখন ততটাই সতর্ক থাকতে হবে, যেমনটা আমরা যুদ্ধের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে ছিলাম।”

আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৫ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস এই মন্তব্য করেন।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নিপীড়নের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্য গড়ে তুলুন, একে অপরের পাশে দাঁড়ান এবং একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে সরকারকে সহযোগিতা করুন।”

অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, আজকের বিশ্বে নারীরা যে অধিকার ও স্বাধীনতা ভোগ করছেন, তা তাদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ফসল। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সূত্রপাত হয়েছিল নারীদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশেও নারীরা ন্যায্য অধিকারের জন্য যুগ যুগ ধরে সংগ্রাম চালিয়ে আসছেন। তেভাগা আন্দোলন, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত—সবক্ষেত্রেই নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তিনি বলেন, “ইতিহাসের অনেক বীর নারীকে আমরা ভুলে গেছি, তাদের অবদানের কথা জানা নেই। কিন্তু আমরা জুলাই কন্যাদের নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের কথা কিছুতেই বিস্মৃত হতে দেব না।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া নারীরা আমাকে তাদের সংগ্রাম ও স্বপ্নের কথা বলেছেন। আমরা যে নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, তা নারীদের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করে সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য অর্জনে পুরুষদেরও নারীদের সহযোদ্ধা হয়ে কাজ করতে হবে।”

সমাজে নারীদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান প্রতিষ্ঠায় পুরুষদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “‘নতুন বাংলাদেশ’-এ আমরা এমন এক পরিবার গড়তে চাই, যেখানে মা-বাবা, ভাই-বোন সবাই তাদের অধিকার নিশ্চিত ও স্বীকৃত পাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের নারীদের সংগ্রামের ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়, অনুপ্রেরণা ও সাহস জোগায়। যারা সমাজে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন, তাদের বলব—যত বাধাই আসুক, ইতিহাস আমাদের যে সুযোগ করে দিয়েছে, তা আমরা সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগাব। আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ব—এটাই আমাদের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা।”