
প্রকাশ: ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, [bdnewsnetwork.com]
সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম : আবারো রক্তাক্ত হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। শনিবার ভোরের আলো ফোটার আগেই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক ট্রাকচালক। দ্রুত গতির ট্রাক সামনে থাকা একটি খালি লরির পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে এই ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ট্রাকটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে লরির ভেতরে ঢুকে যায়, যার ফলে চালকের মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসকে দীর্ঘ সময় ধরে যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে।
ভয়াবহতা ও চালকের পরিচয়
শনিবার ভোর আনুমানিক ৬টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের রয়েল সিমেন্ট গেট সংলগ্ন চট্টগ্রামমুখী লেনে এই হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ট্রাকচালকের নাম ইউনুস সরদার (৬০)। তিনি পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার চিতেলগাঁ গ্রামের বাসিন্দা হলেও জীবিকার প্রয়োজনে চট্টগ্রামের বন্দর এলাকার ২ নম্বর গেট এলাকায় বসবাস করতেন।
সড়কে দুমড়ে মুচড়ে পড়ে থাকা ট্রাকের ধ্বংসাবশেষই বলে দিচ্ছিল দুর্ঘটনার ভয়াবহতা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে চট্টগ্রাম বন্দরের দিকে যাচ্ছিল ইউনুস সরদার-এর চালিত ট্রাকটি। একই পথে চলন্ত একটি খালি লরিকে পেছন দিক থেকে বেপরোয়া গতিতে ধাক্কা মারে ট্রাকটি।
যন্ত্র দিয়ে কেটে লাশ উদ্ধার
সংঘর্ষের পর ট্রাকটির সামনের অংশ একেবারে চ্যাপ্টা হয়ে লরির পেছনের অংশে ঢুকে যায়। এতে চালকের আসন সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ইউনুস সরদারের করুণ মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বার আউলিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ও কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা আল মামুন জানান, “ট্রাকটির সামনের অংশ লরির ভেতরে এমনভাবে আটকে গিয়েছিল যে প্রচলিত পদ্ধতিতে চালকের মরদেহ বের করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না। আমরা প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর আধুনিক যন্ত্রপাতির মাধ্যমে ট্রাকের বডি কেটে চালকের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হই।”
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এরপর আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য মরদেহটি বার আউলিয়া হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।
মামলা ও আইনি প্রক্রিয়া
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোমিন গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন, দুর্ঘটনা কবলিত দুটি গাড়িই জব্দ করা হয়েছে। ওসি আরো জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত চালক ইউনুস সরদারের মরদেহ তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ট্রাকটির অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। সড়কে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এই ঘটনা আবারও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। হাইওয়েতে পরিবহণ চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলার প্রবণতা বাড়ানো এবং কর্তৃপক্ষের নজরদারি বৃদ্ধি করা এখন সময়ের দাবি।


