সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর নৃশংস হামলায় বিশ্বজুড়ে শোক – যুদ্ধাপরাধের তীব্র নিন্দা গুতেরেসের

প্রকাশিত: 1:43 PM, December 14, 2025
https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর ড্রোন হামলা

প্রকাশ: bdnewsnetwork.com

সুদানে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ওপর ড্রোন হামলা ; বিশ্বের সংঘাতময় অঞ্চলগুলোতে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশের ছয়জন নির্ভীক শান্তিরক্ষী সুদানে এক নৃশংস ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন। সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘের লজিস্টিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘ মহাসচিবের কঠোর বার্তা: অগ্রহণযোগ্য হামলা

আল-জাজিরা প্রকাশিত খবরে জানা যায়, গতকাল শনিবার কোরদোফান অঞ্চলের কাদুগলি শহরে অবস্থিত জাতিসংঘের ঘাঁটিতে এই জঘন্য হামলাটি সংঘটিত হয়। বিবৃতিতে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এটিকে ‘নৃশংস’ হামলা হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, “জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।”

নিহত ছয়জন বীর সেনাসহ হামলায় আহত হয়েছেন আরও আটজন শান্তিরক্ষী। হতাহত ১৫ জনই বাংলাদেশের নাগরিক এবং তাঁরা ইউএন ইন্টারিম সিকিউরিটি ফোর্স ফর আবেইয়ের (ইউএনআইএসএফএ) অধীনে দায়িত্ব পালন করছিলেন। মহাসচিব গুতেরেস জোর দিয়ে বলেছেন, “দক্ষিণ কোরদোফানে আজ শান্তিরক্ষীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তা অগ্রহণযোগ্য। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।” তাঁর এই কঠোর বক্তব্য শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের অনড় অবস্থানেরই প্রতিফলন।

সুদানের গৃহযুদ্ধ ও অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ

তেলসমৃদ্ধ আবেই অঞ্চলটি সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এই স্পর্শকাতর এলাকায় জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশন মোতায়েন রয়েছে।

সুদানে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান গৃহযুদ্ধের ফলস্বরূপ এই হামলা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী এই হামলার জন্য আধা সামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর ওপর দায় চাপিয়েছে। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা ‘বিদ্রোহী মিলিশিয়া এবং এর পেছনে যাঁরা আছেন, তাঁদের ধ্বংসাত্মক কৌশলের স্পষ্ট প্রকাশ।’ যদিও হামলার বিষয়ে আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে, এই অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বলি হচ্ছেন বিশ্ব শান্তির জন্য নিবেদিতপ্রাণ আন্তর্জাতিক কর্মীরা।

বাংলাদেশ: শান্তিরক্ষা মিশনের অন্যতম প্রধান অবদানকারী

বিশ্বের যুদ্ধ ও সংঘাতকবলিত অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবদান অনস্বীকার্য। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনের অন্যতম প্রধান অবদানকারী দেশ হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা আবেইয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়েছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। এই হামলা কেবল বাংলাদেশিদের ওপর নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তিরক্ষার প্রচেষ্টার ওপরও আঘাত হেনেছে।

মানবিক সংকট এবং যুদ্ধবিরতির আহ্বান

২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সুদান সেনাবাহিনী ও আরএসএফের ক্ষমতা দখলের এই লড়াই রাজধানী খার্তুম ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা দাবি করছে, তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে। এই গৃহযুদ্ধ বিশ্বে অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে এবং দেশটির কয়েকটি অঞ্চলকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সুদানকে এখনই একটি যুদ্ধবিরতিতে উপনীত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো এবং নিহত ও আহত শান্তিরক্ষীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। একই সাথে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে এই ধরনের অগ্রহণযোগ্য হামলা আর না ঘটে।