
✈️ অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান: ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে বিমান, সপ্তাহে ৩ দিন পরিষেবা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫ [bdnewsnetwork.com]
বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি বিমান যোগাযোগ স্থাপনের দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স শীঘ্রই ঢাকা থেকে পাকিস্তানের করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে তিনদিন এই পরিষেবা চালু করা হবে। এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ইকবাল হুসেইন খান।
গতকাল বুধবার (৩ ডিসেম্বর) পাকিস্তানের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে দ্য নিউজকে দেওয়া বক্তব্যে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণাটি দেন বাংলাদেশি দূত। তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমরা পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট শুরু করছি। আমাদের জাতীয় এয়ারলাইন্স করাচিতে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।”
ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করেই চলবে ফ্লাইট
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার নিয়ে। এই প্রশ্নের জবাবে হাইকমিশনার জানান, এই ফ্লাইটগুলো ভারতের আকাশসীমা ব্যবহার করেই পরিচালিত হবে। তিনি বলেন, “যেমনটা ভারতীয় প্লেন বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারে। বিমানের ফ্লাইটও তেমনিভাবে ভারতের ওপর দিয়ে উড়বে।” এই অনুমতি প্রাপ্তি দুই দেশের বিমান চলাচলে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে দুটি দেশের মধ্যে সরাসরি কোনো বিমান যোগাযোগ নেই, যার কারণে ভ্রমণকারীদেরকে দীর্ঘ এবং ব্যয়বহুল রুট ব্যবহার করতে হয়। এই সরাসরি ফ্লাইট চালু হলে দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা, পর্যটন এবং পারিবারিক যোগাযোগ অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
পাকিস্তান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ
জিও টিভি সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে পাকিস্তানের কোনো বিমান সংস্থার ঢাকায় ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা কিছুটা কম। এর প্রধান কারণ হলো, ভারতের ওপর দিয়ে পাকিস্তানের বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ রয়েছে। যেহেতু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে এখনও সম্পূর্ণ স্বাভাবিকতা ফেরেনি, তাই শুধুমাত্র বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সই এই রুটটিতে পরিষেবা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সংযোগের গুরুত্ব
বাংলাদেশের হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগ এবং সহযোগিতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তিনি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য, সংযোগ এবং সহযোগিতার বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও, সীমিত প্রবেশাধিকার, সীমান্ত-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ এবং আঞ্চলিক রাজনীতি এখনও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
ইকবাল হুসেইন খান বলেন, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে, কিন্তু সরাসরি প্রবেশাধিকারের অভাব এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে আছে। তিনি অতীতের রেলপথের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহজে বাণিজ্যের উদাহরণ টেনে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এখন পাকিস্তানের খেজুরের মতো পণ্যও দুবাই হয়ে আঞ্চলিক বাজারে পৌঁছায়। সরাসরি বিমান যোগাযোগ এবং অন্যান্য প্রবেশাধিকারের উন্নতি এই বাণিজ্যের পথকে সহজ করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করতে সহায়ক হবে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিমান বাংলাদেশের এই উদ্যোগ শুধু ভ্রমণকেই সহজ করবে না, বরং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রকেও প্রসারিত করবে। এই রুটটি সফলভাবে চালু হলে ভবিষ্যতে ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়া নিঃসন্দেহে ঢাকা এবং করাচির নাগরিকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর, যা দু’দেশের জনগণের মধ্যে দূরত্ব কমাতে সাহায্য করবে।


