✈️ ইন্ডিগোর ফ্লাইট বিপর্যয়: ৬১০ কোটি রুপি ফেরত, ৩০০০ লাগেজ হস্তান্তর—স্বাভাবিক হচ্ছে পরিস্থিতি

প্রকাশিত: 11:09 AM, December 8, 2025

৬১০ কোটি রুপি ফেরত!

[bdnewsnetwork.com]

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একটানা ছয় দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলের কারণে সৃষ্ট চরম বিশৃঙ্খলা ও যাত্রী দুর্ভোগের পর অবশেষে পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স (IndiGo Airlines)। সংস্থাটি এ পর্যন্ত যাত্রীদের টিকিটের দাম বাবদ বিশাল অঙ্কের ৬১০ কোটি রুপি (ভারতীয় টাকা) ফেরত দিয়েছে এবং প্রায় তিন হাজারেরও বেশি গচ্ছিত মালপত্র (লাগেজ) যাত্রীদের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। এই তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক।

নজিরবিহীন বিপর্যয় ও সরকারি হস্তক্ষেপ

গত কয়েকদিনে ইন্ডিগোর ফ্লাইট অপারেশনে নজিরবিহীন বিপর্যয় দেখা যায়। দৈনিক প্রায় ২,৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করা এই সংস্থার গত শুক্রবার (০৫ ডিসেম্বর ২০২৫) মাত্র ৭০৬টি ফ্লাইট চলেছে, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী ভোগান্তির শিকার হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক সরাসরি হস্তক্ষেপ করে এবং রবিবার রাত ৮টার মধ্যে যাত্রীদের সমস্ত টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক গতকাল রবিবার (০৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স বিপর্যয়ের শিকার হওয়া যাত্রীদের টিকিটের ভাড়া বাবদ মোট ৬১০ কোটি রুপি ফেরত দিয়েছে। একই সঙ্গে, যাত্রীদের কাছে জমা থাকা ৩,০০০-এরও বেশি মালপত্রও ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বাকি থাকা টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুততার সঙ্গে চলছে।

️ স্বাভাবিক হচ্ছে অপারেশন, মিলছে ছাড়

বিবৃতিতে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি আশা করছে, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্লাইট অপারেশন আগের ছন্দে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

সংস্থার দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গতকাল রবিবার ৬৫০টি ফ্লাইট বাতিল হলেও ১,৬৫০টি ফ্লাইট নির্ধারিত সূচি মেনেই চলাচল করেছে। এটি শুক্রবারের তুলনায় অনেক উন্নত পরিস্থিতি নির্দেশ করে। এছাড়া, ইন্ডিগো তার মোট ১৩৮টি গন্তব্যের মধ্যে ১৩৭টি গন্তব্যেই পরিষেবা সচল রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষ ঘোষণা হিসেবে যাত্রীদের জন্য ইন্ডিগো জানিয়েছে, আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত যাত্রীরা টিকিট বাতিল (Cancellation) এবং নতুন করে বুকিং বা সূচি পরিবর্তনের (Rebooking) উপর সম্পূর্ণ ছাড় (Full Waiver) পাবেন। এই ছাড়ের ঘোষণা যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

যাত্রী সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন

এই নজিরবিহীন ঘটনা ভারতের বিমান পরিবহন খাতে যাত্রী সেবার মান এবং সংস্থাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। যদিও ইন্ডিগো দ্রুততার সঙ্গে অর্থ ফেরত এবং লাগেজ হস্তান্তরের মাধ্যমে কিছুটা ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে, তবুও ভবিষ্যতে এমন বিপর্যয় এড়াতে বিমান সংস্থাগুলোর অপারেশনাল সক্ষমতা এবং কর্মীদের প্রস্তুতির ওপর আরও জোর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ঘটনা দেশের বিমান পরিবহন শিল্পে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।