
হোসেনপুরে বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন
কিশোরগঞ্জের উপজেলার জিনারী ইউনিয়নে হোসেনপুর বিএনপির নতুন কমিটি গঠন নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ভোটের মাধ্যমে তিনটি শীর্ষ পদে নেতা নির্বাচন করা হলেও, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ নতুন ভোটের দাবি তুলেছে। এ নিয়ে পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছেন উভয় পক্ষ।
ভোটে জয়ী হওয়া পক্ষের বক্তব্য
গত ৭ ডিসেম্বর জিনারী ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত বিএনপির সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাজী ইসরাইল মিয়ার নেতৃত্বে ভোট অনুষ্ঠিত হয়।
১৩৫ জন ভোটারের মধ্যে ১৩২ জন ভোট দেন। এতে বাহার উদ্দিন সভাপতি পদে ৬৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বাবুল মিয়া এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আলম সরকার নির্বাচিত হন।
নবনির্বাচিত সভাপতি বাহার উদ্দিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, “সম্মেলন এবং ভোট পুরোপুরি স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে। পরাজিত পক্ষ মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিভ্রান্তি তৈরি করছে।”
প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের অভিযোগ
সম্মেলনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পরাজিত প্রার্থী ফখরুল আলম খান দাবি করেন, “ভোটার তালিকায় অনিয়ম করা হয়েছে। কিছু ওয়ার্ডে ৯ জনের পরিবর্তে ১৩ জন ভোটার করা হয়। এমনকি মৃত ব্যক্তির নামও তালিকায় রাখা হয়েছে।”
এছাড়া, ফখরুল আলম নতুন করে ভোট আয়োজনের দাবি করেন এবং বর্তমান কমিটিকে অবৈধ বলে অভিহিত করেন।
জেলা ও উপজেলা বিএনপির প্রতিক্রিয়া
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম জানান, “সম্মেলনটি দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে হয়েছে। পরাজিত প্রার্থীদের অভিযোগ ভিত্তিহীন।”
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলামও একই কথা পুনর্ব্যক্ত করেন, “হোসেনপুর বিএনপির কমিটি গঠন সম্মেলনে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়নি। অভিযোগগুলো বিভ্রান্তিকর।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হোসেনপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে সমাধান আসবে কিনা, তা এখন দেখার বিষয়।
কিশোরগঞ্জে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত
কিশোরগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফা।কিশোরগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন ।
নিহত ব্যক্তি মো. জুলহাস মিয়া (৬০) শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা ও আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. রুবেল মিয়া (৩৬) পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ওসি জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে রুবেল মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে বড় ভাই জুলহাস মিয়ার পেটে আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় জুলহাসকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় রুবেল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ওসি মোস্তফা বলেন, “আদালতে হাজির করার পর বিচারকের নির্দেশে রুবেলকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ ছিল, যা ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


