যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেন রাশিয়া ব্যবহারে রাশিয়ার হুঁশিয়ারি: যুদ্ধ আরও জটিল পথে
রাশিয়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যদি ইউক্রেন তাদের ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে, তবে “যথাযথ ও কার্যকর” পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সমতুল্য বলে উল্লেখ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সম্প্রতি ইউক্রেনকে এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাইডেনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যদিও নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত। ট্রাম্প তার প্রচারণায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি যুদ্ধে জড়ানো বন্ধ করবেন।
ইউক্রেনের শক্তি বৃদ্ধি
ইউক্রেন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ছাড়াও যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের স্টর্ম শ্যাডো ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এতদিন এই অস্ত্রগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি। বাইডেনের নতুন সিদ্ধান্ত যুদ্ধের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাশিয়ার পাল্টা প্রস্তুতি
রাশিয়া ইতোমধ্যে ইউক্রেনের অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে এবং কুরস্ক অঞ্চলে উত্তর কোরিয়া থেকে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। শোনা যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়া আরও এক লাখ সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম রাশিয়াকে সরবরাহ করতে পারে।
পশ্চিমা বিশ্বের সতর্কতা
মার্কিন ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন ফাইনার জানিয়েছেন, রাশিয়াকে আগেই সতর্ক করা হয়েছে। রাশিয়া যদি হামলা অব্যাহত রাখে, তবে যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থান
নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও কিভাবে তা করবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। তিনি বলেছেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটাব।”
রাশিয়ার প্রতিক্রিয়া ও পুতিনের অবস্থান
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই বিষয়ে এখনও মন্তব্য করেননি। তবে তার মুখপাত্র বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র আগুনে ঘি ঢালছে।”
রাজধানীতে আজও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা, যা যানজটের সৃষ্টি করেছে এবং ঢাকাবাসীর চলাচলে ব্যাপক ভোগান্তি তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবার সকালে আগারগাঁও, কল্যাণপুর, গাবতলী, টেকনিক্যাল, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, পল্লবী ও ডেমরা এলাকায় তারা সড়ক অবরোধ করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাখালী রেল ক্রসিং, কল্যাণপুর, আগারগাঁও ও পল্লবী এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন। তাদের আন্দোলন মিরপুর-১০ নম্বরে জড়ো হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। গাবতলীর প্রবেশমুখে এই বিক্ষোভের কারণে যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ ও বের হওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
তেজগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান জানান, সকাল ১০:৩০ টার দিকে মহাখালী বাস স্ট্যান্ড ও রেলগেট এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন রিকশাচালকরা, যার ফলে ওই এলাকায় যান চলাচল সীমিত হয়ে যায়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সড়ক থেকে সরে যেতে অনুরোধ করছে।
এ বিষয়ে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) ইয়াসিনা ফেরদৌস জানান, আজ সকাল থেকে আগারগাঁও, কল্যাণপুর ও পল্লবীতে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছেন। তারা মিরপুর-১০ নম্বরে একত্রিত হয়ে আন্দোলন করবেন বলে জানা গেছে।
গতকালও যাত্রাবাড়ীর দয়াগঞ্জ মোড়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রিকশাচালকরা, যা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত হন।
এর আগে, ঢাকা মহানগর এলাকায় হাইকোর্ট তিন দিনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধের নির্দেশ দেন। একইসাথে, ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধে কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। এরপর থেকেই রাজধানীতে টানা দুইদিন সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন রিকশাচালকরা।
আগরতলায় বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা।ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনে হামলার পর ভিসা ও কনস্যুলার সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের দূতালয় প্রধান মো. আল আমীন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, “নিরাপত্তার অভাবজনিত পরিস্থিতিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।”
সোমবার, বাংলাদেশের সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হিন্দু সংঘর্ষ সমিতি নামের একটি সংগঠন সহকারী হাই কমিশনের সামনে একটি সভা আয়োজন করে। সভা শেষে সংগঠনের ছয়জনের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি জমা দিতে কার্যালয়ে প্রবেশ করে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় বাইরে থাকা কিছু ব্যক্তি বাংলাদেশ সহকারী হাই কমিশন কার্যালয়ে প্রবেশ করে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নামিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং কার্যালয়ের সাইনবোর্ড ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।
পরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ ঘটনাকে “গভীর দুঃখজনক” বলে উল্লেখ করে জানায়, “কূটনৈতিক ও কনস্যুলার স্থাপনাকে কোনো অবস্থাতেই লক্ষ্যবস্তু করা উচিত নয়। সরকার নয়া দিল্লি ও অন্যান্য জায়গায় বাংলাদেশ মিশনগুলোর নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।”