নান্দাইলে দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালালেন স্বামী, প্রথম স্ত্রী পুলিশের হেফাজতে।

প্রকাশিত: 8:40 PM, December 26, 2024

ময়মনসিংহের নান্দাইলে দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে  রিমা আক্তার (১৫) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে পালিয়ে গেছেন তাঁর স্বামী পারভেজ মিয়া। আজ বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের কর্মীরা পারভেজকে ধরার চেষ্টা করলেও তিনি পালিয়ে যান।

নিহত রিমা আক্তার আচারগাঁও ইউনিয়নের কোনাডাংগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। রিমার পরিবারের অভিযোগ, স্বামী পারভেজ মিয়া ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ঝুমা আক্তার মিলে রিমাকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রথম স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে আটক করেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে আজ সকালে পারভেজ মিয়া অচেতন অবস্থায় রিমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে পারভেজ দ্রুত হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পারভেজ মিয়া আচারগাঁও ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের আহমেদ হোসেনের ছেলে।

পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, রিমা আক্তার সিংরইল ইউনিয়নের দিলালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে পারভেজের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন মাস আগে আদালতে এফিডেভিট করে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে রিমা জানতেন না যে পারভেজের আগের স্ত্রী রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে দম্পতির মধ্যে কলহ শুরু হয়। রিমা প্রথম স্ত্রী ঝুমাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললেও পারভেজ তাঁকে বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

রিমার মা মর্জতা বেগম বলেন, “পারভেজ আমার মেয়েকে কৌশলে বিয়ে করে, এরপর আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আজ সকালে আমার মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই। পারভেজ ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মিলে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।”

নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আহমেদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পারভেজ পলাতক থাকলেও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল জানিয়েছেন, বেশি ক্ষতি আটতলা নয়তলায় সচিবালয়ে আগুনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আটতলা ও নয়তলায়। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। বেশি ক্ষতি আটতলা নয়তলায়

এদিকে, সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে এই আগুন লাগে, যেখানে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এই ভবনে রয়েছে: পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ; শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; অর্থ মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ; সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।

বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস আগুন লাগার সংবাদ পায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করছেন। ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা বাড়ানো হয়। পাশাপাশি সচিবালয় এলাকায় বিজিবি সদস্যরাও মোতায়েন করা হয়।

রাজধানীর বাংলাদেশ সচিবালয়ের ফায়ার সার্ভিসের একসদস্য নিহত  ৭ নম্বর ভবনে আগুন নেভাতে গিয়ে ট্রাকচাপায় ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম সোহানুজ্জামান নয়ন।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ঘটনাস্থলে এক ব্রিফিংয়ে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদ কামাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জাহেদ কামাল জানান, আগুন নেভানোর সময় সড়ক পার হতে গিয়ে একটি ট্রাকের ধাক্কায় নয়ন গুরুতর আহত হন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।  ফায়ার সার্ভিসের একসদস্য নিহত

সোহানুজ্জামান নয়ন ফায়ার সার্ভিসের তেজগাঁও স্পেশাল ইউনিটে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায়। বাবার নাম আখতারুজ্জামান।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, নিহতের মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার খবর তারা পায় গতকাল বুধবার দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে। ১টা ৫৪ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

ফায়ার সার্ভিসের আশা, অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া আকাশ মণ্ডল ওরফে ইরফান চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) তাকে গ্রেফতারের পর র‍্যাবের তদন্ত ও তার জবানবন্দি থেকে এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসে।

ইরফান জানান, জাহাজে ৭ খুনের ঘটনা  জাহাজের মাস্টারের নিরাপত্তার জন্য রাখা চাইনিজ কুড়ালটি খুনের কাজে ব্যবহার করেন তিনি। দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে

বেতন না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে জাহাজের মাস্টারকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেছিলেন ইরফান। পাশাপাশি, অন্যরা তার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে না জেনে তাদের প্রতি বিরূপ মনোভাবও তৈরি হয়।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৮ ডিসেম্বর তিনি তিন পাতা ঘুমের ওষুধ কিনে নিজের কাছে রাখেন। জাহাজে ৭ খুনের ঘটনা ২২ ডিসেম্বর জাহাজটি চট্টগ্রাম থেকে সিরাজগঞ্জের পথে যাত্রা শুরু করে এবং চাঁদপুরের হাইমচর এলাকায় নোঙর করে।

সেই রাতে ইরফান খাবারের সঙ্গে তিন পাতা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেন। খাবার খেয়ে সবাই গভীর ঘুমে অচেতন হয়ে পড়ে। রাত ২টার দিকে শেষ সদস্য জুয়েল খাবার খেয়ে ঘুমাতে গেলে ইরফান তার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেন।

রাত সাড়ে ৩টার দিকে প্রথমে জাহাজের মাস্টারকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন ইরফান। তার মূল ক্ষোভ ছিল মাস্টারের প্রতি। তবে মাস্টারকে হত্যার পর মনে হয় অন্যরা বেঁচে থাকলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যেতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে তিনি একে একে বাকি সদস্যদেরও হত্যা করেন।

জুয়েলকে হত্যার চেষ্টায় গলায় আঘাত করলেও সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।

ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অন্যান্য জাহাজগুলো যাত্রা শুরু করলে ইরফান নিজেও জাহাজটি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এক ঘণ্টা পর হাইমচর এলাকায় জাহাজ আটকা পড়লে একটি ট্রলারে করে পালিয়ে যান তিনি।

পালানোর সময় নিহতদের ফোনগুলোও নিয়ে যান ইরফান। গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত কাউকে নিজের অপরাধের কথা জানাননি বলেও স্বীকার করেন।

জাহাজে ৭ খুনের ঘটনার চাঞ্চল্যকর বিবরণ দিলেন অভিযুক্ত।