
২৭ ডিসেম্বর, গফরগাঁওয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা শুক্রবার সকাল ১১টা ১৮ মিনিটে গফরগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া ট্রেন দুর্ঘটনায় মোঃ জাকারিয়া (৫০) নামে একজন গুরুতর আহত হন। তিনি ময়মনসিংহের নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গন্ডা গ্রামের বাসিন্দা এবং মোঃ আবদুল খালেকের ছেলে।
আহতের ছেলে মোঃ নোমান জানান, দুর্ঘটনায় তার বাবার দুই পা কেটে ঝুলে গেছে। এর মধ্যে ডান পায়ের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
মোঃ জাকারিয়া মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার সেলামতি আহমদিঘা কওমী মাদ্রাসায় চাকরি করেন। সকালে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকাগামী আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র ট্রেনে যাত্রা শুরু করেন। গফরগাঁওয়ে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা
গফরগাঁও রেলস্টেশনের রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই মোঃ আরিজ শিকদার জানান, গফরগাঁও স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ব্রহ্মপুত্র ট্রেনটি গফরগাঁও ইউনিয়নের বাসুটিয়া বাজার এলাকার অরক্ষিত রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় একটি বালুর লড়ির ইঞ্জিনের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। এতে ট্রেনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বালুর লড়িটি সম্পূর্ণভাবে চুরমার হয়ে যায়।
বাসুটিয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আল্লাহর রহমতে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে বড় কোনো ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
নান্দাইলে দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালালেন স্বামী, প্রথম স্ত্রী পুলিশের হেফাজতে।
ময়মনসিংহের নান্দাইলে দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে রিমা আক্তার (১৫) নামে এক গৃহবধূর মৃতদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ফেলে পালিয়ে গেছেন তাঁর স্বামী পারভেজ মিয়া। আজ বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতালের কর্মীরা পারভেজকে ধরার চেষ্টা করলেও তিনি পালিয়ে যান।
নিহত রিমা আক্তার আচারগাঁও ইউনিয়নের কোনাডাংগর গ্রামের রফিকুল ইসলামের মেয়ে। রিমার পরিবারের অভিযোগ, স্বামী পারভেজ মিয়া ও তাঁর প্রথম স্ত্রী ঝুমা আক্তার মিলে রিমাকে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় পুলিশ প্রথম স্ত্রী ঝুমা আক্তারকে আটক করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দ্বিতীয় স্ত্রীর লাশ হাসপাতালে আজ সকালে পারভেজ মিয়া অচেতন অবস্থায় রিমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করলে পারভেজ দ্রুত হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। পারভেজ মিয়া আচারগাঁও ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামের আহমেদ হোসেনের ছেলে।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, রিমা আক্তার সিংরইল ইউনিয়নের দিলালপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে পারভেজের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তিন মাস আগে আদালতে এফিডেভিট করে তাঁরা বিয়ে করেন। তবে রিমা জানতেন না যে পারভেজের আগের স্ত্রী রয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হলে দম্পতির মধ্যে কলহ শুরু হয়। রিমা প্রথম স্ত্রী ঝুমাকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বললেও পারভেজ তাঁকে বুঝিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
রিমার মা মর্জতা বেগম বলেন, “পারভেজ আমার মেয়েকে কৌশলে বিয়ে করে, এরপর আর কোনো খোঁজ নেয়নি। আজ সকালে আমার মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই। পারভেজ ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মিলে আমার মেয়েকে হত্যা করেছে।”
নান্দাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আহমেদ জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পারভেজ পলাতক থাকলেও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


