ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা দুই মাসের জন্য জারি, ইমরান খানের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রতিবন্ধকতা
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) নেতা ইমরান খান, কারাবন্দি অবস্থায় ২৪ নভেম্বর দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে দলীয় নেতা-কর্মীদের অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী পাশের মাধ্যমে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হবে। ইমরান খানের এই ঘোষণার পরই ইসলামাবাদে ১৪৪ ধারা দুই মাসের জন্য কার্যকর করা হয়েছে, যা তাঁর কর্মসূচির সাফল্যে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
পিটিআই নেতৃত্বের দাবি, শাহবাজ শরিফের পিএমএল(এন) ও পিপিপি জোট সরকার জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ক্ষমতায় এসেছে এবং পরবর্তীতে তারা নির্বিচারে সাধারণ মানুষের গ্রেফতার ও সংবিধান সংশোধন করে দেশকে স্বৈরাচারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে, ১৪৪ ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে পিটিআই-এর কয়েকজন শীর্ষ নেতা গ্রেফতার হলেও পরে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়। ইসলামাবাদের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উসমান আশরফ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, রাজধানীতে বেআইনি সমাবেশের আশঙ্কা থাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ২৪ নভেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তবে ইমরান খান ও তাঁর দল তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে।
কিশোরগঞ্জে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত
কিশোরগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফা।কিশোরগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন ।
নিহত ব্যক্তি মো. জুলহাস মিয়া (৬০) শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা ও আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. রুবেল মিয়া (৩৬) পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ওসি জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে রুবেল মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে বড় ভাই জুলহাস মিয়ার পেটে আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় জুলহাসকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় রুবেল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ওসি মোস্তফা বলেন, “আদালতে হাজির করার পর বিচারকের নির্দেশে রুবেলকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”
নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ ছিল, যা ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।