হোসেনপুরে হত্যা মামলার ৩ আসামি নাটোর থেকে গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ট্রাক ও আলামত উদ্ধার

প্রকাশিত: 11:46 AM, July 12, 2026

হোসেনপুরে হত্যা মামলার ৩ আসামি নাটোর থেকে গ্রেফতার, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ট্রাক ও আলামত উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে সংঘটিত আলোচিত হত্যা মামলার তিন আসামিকে নাটোর জেলার গুরুদাসপুর থেকে গ্রেফতার করেছে হোসেনপুর থানা পুলিশ। হোসেনপুরে হত্যা মামলা একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মাঝারি আকারের ট্রাক এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়েছে।

হোসেনপুরে হত্যা মামলা শুক্রবার (১১ জুলাই) গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণ করা হয়।

হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খালিদ শেখ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় গুরুদাসপুর থানা পুলিশের সহযোগিতায় নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—

  • মো. আজাদুল ইসলাম (২০), পিতা: মো. কিয়াম উদ্দিন ইসলাম, গ্রাম: চন্দ্রপুর মাঝপাড়া, থানা: গুরুদাসপুর, জেলা: নাটোর।
  • মো. সৌরভ (১৯), পিতা: সাইফুল ইসলাম, গ্রাম: চন্দ্রপুর মাঝপাড়া, থানা: গুরুদাসপুর, জেলা: নাটোর।
  • সরজিৎ কুমার (২৭), পিতা: মৃত হরিশচন্দ্র কুমার, গ্রাম: ডুবারপাড়া, ডাকঘর: পুরুলিয়া, থানা: গুরুদাসপুর, জেলা: নাটোর।

হোসেনপুরে হত্যা মামলার জানায়, গ্রেফতারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গুরুদাসপুর থানার চন্দ্রপুর বীরবাজার এলাকা থেকে ঢাকা মেট্রো-১২-৬৭৬১ নম্বরের একটি মাঝারি আকারের ট্রাক উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত লোহার পাইপ, ভারী লিভার ও হ্যান্ডেলসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামতও জব্দ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জুন ২০২৬ সকালে হোসেনপুর উপজেলার ডাহরা তালিমুল উম্মাহ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা ও এতিমখানার সামনে হোসেনপুর–কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ এবং অপর একজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ব্যক্তিকে কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

প্রাথমিক তদন্ত ও নিহতের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ৯ জুন দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার খুরশিদমহল ব্রিজের পশ্চিম পাশে একটি মাছবাহী ট্রাকে তিন ব্যক্তি মাছ চুরির উদ্দেশ্যে ওঠেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ট্রাকে থাকা ব্যক্তিরা তাদের ধরে লোহার হ্যান্ডেল, হুইল রেঞ্চ, ভারী লিভার ও মোটা লোহার পাইপ দিয়ে নির্মমভাবে মারধর করে। এতে মো. আসিফ (২২), রনি মিয়া (২৪) ও ইউসুফ (২৩) গুরুতর আহত হন। পরে ইউসুফ কৌশলে ট্রাক থেকে নেমে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও রনি নিহত হন এবং অপর আহত ব্যক্তিকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, মামলার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।