আমি কোনো শিক্ষার্থীকে হত্যা করিনি, আমাকে বাঁচান

প্রকাশিত: 10:40 AM, November 21, 2024

গুলশান থানার সাবেক ওসি: ‘আমি কোনো শিক্ষার্থীকে হত্যা করিনি, আমাকে বাঁচান’

গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলাম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম। কোনো শিক্ষার্থীকে হত্যা করিনি। আমাকে বাঁচান।’

বুধবার (২০ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হলে তিনি এই বক্তব্য দেন। মাজহারুল ইসলাম জুলাই-আগস্ট গণহত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি।

আসামির দাবি ও ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ

মাজহারুল ইসলাম বলেন, গণহত্যার সময় তিনি সাভারের নয়, গুলশানের ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম দাবি করেন, তার নেতৃত্বেই গুলশানের প্রগতি সরণি এলাকায় গণহত্যা সংঘটিত হয়।

ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সাবেক পুলিশ প্রধানসহ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শেষ করতে এক মাস সময় বেঁধে দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের কারাগারে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া কর্মকর্তারা

এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

  • সাবেক পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন
  • এনটিএমসির সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান
  • ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল কাফি
  • মিরপুর ডিএমপির সাবেক ডিসি মো. জসিম উদ্দিন মোল্লা
  • সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত সুপার মো. শাহিদুর ইসলাম
  • যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসান
  • গুলশান থানার সাবেক ওসি মাজহারুল ইসলাম
  • ঢাকা উত্তর ডিবির সাবেক পরিদর্শক মো. আরাফাত হোসেন

পরবর্তী শুনানি

মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন যত দেরিতে হবে, ষড়যন্ত্র ততই বাড়বে: তারেক রহমান

নির্বাচন দেরি হলে ষড়যন্ত্র বাড়বে ততই : তারেক রহমান চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়াল বক্তব্যে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “দেশের নির্বাচন যত দেরি হবে, ষড়যন্ত্র ততই বৃদ্ধি পাবে।” শনিবার চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে আয়োজিত জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন।

নির্বাচন দেরি ও ষড়যন্ত্র প্রসঙ্গে তারেক রহমান

তারেক রহমান বলেন, “জনগণের অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একসময় স্বৈরাচারকে হটানো হয়েছে। কিন্তু সেই স্বৈরাচার বসে নেই। দেশি-বিদেশি প্রভুদের সঙ্গে মিলে তারা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। নির্বাচন দেরি হলে, দেশের বিভিন্ন সেক্টরে সৃষ্ট সমস্যা আরও বেড়ে যাবে। শিক্ষাব্যবস্থা, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে সংকট আরও প্রকট হবে। একমাত্র একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা

তারেক রহমান বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম। এই নির্বাচনেই প্রকৃত জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়ে আসতে পারবেন। জনগণের স্বার্থে কাজ করতে হলে দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। বিএনপির নেতা-কর্মীদের নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।”

সম্মেলনে তারেক রহমানের আহ্বান

বিএনপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “দেশবাসী বিএনপিকে দায়িত্ব দিতে চায়। তাই প্রত্যেক নেতা-কর্মীকে তাদের এলাকার জনগণের প্রত্যাশা বুঝে কাজ করতে হবে। দায়িত্বশীল আচরণ ও সংগঠনের ঐক্যবদ্ধতাই আমাদের এগিয়ে নেবে।”

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সম্মেলনের উদ্বোধন হয় সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে। বেলুন উড়িয়ে ও শোক প্রস্তাবের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সম্মেলন উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “শেখ মুজিব দেশে প্রথম ফ্যাসিবাদের সূচনা করেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার উপর আঘাত এসেছে। জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিএনপির লক্ষ্য পরিষ্কার—দেশের তরুণদের নেতৃত্বে আনা।”

শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য

সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান (দুদু), নিতাই রায় চৌধুরী, অনিন্দ্য ইসলাম, জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শরীফুজ্জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

উপসংহার

বিএনপি নেতারা নির্বাচনকে দেশের সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ হিসেবে উল্লেখ করেন। সম্মেলনে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বিএনপির ঐক্য, নীতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।

এই সম্মেলন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি শক্তিশালী করার পাশাপাশি দলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।