শিক্ষার্থীরা সড়ক-রেলপথ ছেড়ে সচিবালয়ে প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে”

প্রকাশিত: 5:56 PM, November 18, 2024
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক:শিক্ষার্থীরা সড়ক রেলপথ ছেড়ে সচিবালয়ে মহাখালীর রেল ও সড়ক পথ থেকে অবরোধ তুলে নিয়েছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে তারা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছিলেন। তবে, সোমবার (১৮ নভেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেন। এ সময় শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করতে সচিবালয়ে যায়।

আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, “আমাদের প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে আলোচনা করতে গেছেন এবং তারা সেখান থেকে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে আসবেন। তবে আমরা সড়কটি ছেড়ে দিয়েছি, ঘোষণা অনুযায়ী।” অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা সড়ক রেলপথ ছেড়ে বিক্ষোভ থেকে ট্রেনে ঢিল ছোড়ার ঘটনায় শিশুসহ কয়েকজন রক্তাক্ত হন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে করার দাবিতে মহাখালী ওভারব্রিজের নিচে রেললাইনে অবস্থান নিয়েছিলেন শতাধিক শিক্ষার্থী, ফলে ওই সড়কে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় তারা স্লোগান দেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি মহাখালী রেলগেট অতিক্রম করার সময় বিক্ষোভকারীরা ট্রেনটি থামানোর চেষ্টা করেন, তবে ট্রেনটি গতিসম্পন্ন হয়ে যাওয়ার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে থামানো সম্ভব হয়নি। কিছু বিক্ষোভকারী ট্রেনের দিকে ঢিল ছোড়ে, যার ফলে কয়েকজন আহত হন।

রেলওয়ে কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে মহাখালী এলাকায় দুটি আন্তঃনগর ট্রেন আটকে গেছে। এর মধ্যে জামালপুরের তারাকান্দিগামী অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকামুখী বনলতা এক্সপ্রেস রয়েছে।

এছাড়া, গত ২৪ অক্টোবরেও একই দাবিতে তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। সেদিন তারা কলেজ ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং মহাখালীর আমতলীতে গিয়ে অবস্থান নেন।

কুকুরের কামড়ে শিশুর প্রাণহানি

কিশোরগঞ্জে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই নিহত

কিশোরগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন, কিশোরগঞ্জে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে আহত এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি মো. গোলাম মোস্তফা।কিশোরগঞ্জে ভাইয়ের হাতে ভাই খুন ।

নিহত ব্যক্তি মো. জুলহাস মিয়া (৬০) শহরের বত্রিশ এলাকার বাসিন্দা ও আব্দুল গফুর মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই মো. রুবেল মিয়া (৩৬) পুলিশি হেফাজতে রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

ওসি জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে গত ৩ ডিসেম্বর দুপুরে রুবেল মিয়া ধারালো ছুরি দিয়ে বড় ভাই জুলহাস মিয়ার পেটে আঘাত করেন। গুরুতর অবস্থায় জুলহাসকে প্রথমে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তিনদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

গ্রেপ্তার ও তদন্ত

ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় রুবেল মিয়াকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ওসি মোস্তফা বলেন, “আদালতে হাজির করার পর বিচারকের নির্দেশে রুবেলকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশের মতে, পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ ছিল, যা ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে। হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।