ব্যবসায়ী জসিমকে হত্যার পর এক নারী তার মরদেহ সাত টুকরা করেন।

প্রকাশিত: 8:14 AM, November 15, 2024

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় “নারী কর্তৃক ব্যবসায়ী হত্যা”ডাইং ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন মাসুমকে (৬২) হত্যার পর তার মরদেহ সাত টুকরো করেন এক নারী (৩০)। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই নারী জসিমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িত ছিলেন। কিন্তু অন্য এক নারীর সঙ্গে জসিমের সম্পর্ক গড়ে উঠলে, রাগ ও ক্ষোভে তিনি প্রথমে দুধের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে জসিমকে অচেতন করেন। এরপর চাপাতি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যা করেন এবং হ্যাকসো ব্লেড দিয়ে মরদেহ টুকরো করেন। আটক ওই নারী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এ ঘটনা স্বীকার করেছেন।

মৃতদেহের টুকরো উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাপাতি, হ্যাকসো ব্লেড, সাফারি স্যুট ও জুতা পুলিশ জব্দ করেছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বৃহস্পতিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

নিহত জসিম নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কাঠেরপুল এলাকার বাসিন্দা এবং ফতুল্লার চাঁদ ডাইং ও নিট কম্পোজিট গার্মেন্টসের মালিক ছিলেন। তিনি পরিবারসহ রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বসবাস করতেন। আটক নারী ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানার বাসিন্দা এবং জসিম তাকে মিরপুর শেওড়াপাড়ার একটি ফ্ল্যাটে রেখেছিলেন।

এর আগে, ১৩ নভেম্বর সকালে রূপগঞ্জের পূর্বাচল ৫ নম্বর সেক্টরের লেকপাড়ে পলিথিনে মোড়ানো মরদেহটি এক রিকশাচালক খুঁজে পান। মরদেহের টুকরোগুলো সাদা পলিথিনে মোড়ানো ছিল। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআই আলামত সংগ্রহ করে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জসিম বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে অন্য নারীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী পরিকল্পনা করে জসিমকে হত্যা করেন। হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে সেগুলো উবার ও সিএনজিতে করে পূর্বাচল লেকপাড়ে ফেলে আসেন। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে এবং অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

জসিমের মরদেহ শনাক্ত করতে তার ছেলে ওবায়দুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে যান। তিনি জানান, গত রোববার বিকেলে তার বাবা ব্যক্তিগত গাড়িতে গুলশানের বাসা থেকে বের হন এবং পরদিন তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

ট্রাইব্যুনাল প্রশ্ন করল: শেখ হাসিনা কোথায়