
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার দুটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।গাজীপুরে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার গতকাল শনিবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের দিকে গাজীপুরের গাছা থানার সাইনবোর্ড এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুরে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার নারান্দী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম (৪৫) এবং বুরুদিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান নাজমুল হুদা (৩৮)।
র্যাব সূত্রে জানা যায়,গাজীপুরে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার গত ২০ জুলাই সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত পাকুন্দিয়া বাজারের ডাকবাংলো মোড় ও বটতলা এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়, এতে অনেকে আহত হন। এ ঘটনায় মো. মোস্তফা নামে একজন বাদী হয়ে ১৩ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত দুজন এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১ সিপিএসসির সহায়তায় গতকাল রাতে তাঁদের গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪ কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল।
কিশোরগঞ্জ র্যাব কোম্পানির কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মো. আশরাফুল কবির জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত দুজনকে পাকুন্দিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে যুবদল নেতা আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক, কেন্দ্রীয় কমিটির বহিষ্কার
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে হিলচিয়া ইউনিয়নের খনারচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্রসহ উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবুল খায়েরকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। এ ঘটনায় তাকে যুবদল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি।
বাজিতপুর থানার ওসি মুরাদ হাসান জানান, মঙ্গলবার রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানে একটি দেশি বন্দুকসহ আবুল খায়েরকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে বুধবার সন্ধ্যায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে জানানো হয়, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আবুল খায়েরকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
চিঠিতে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের নির্দেশে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে শেয়ার করুন এবং আপনার মতামত জানান
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গাঙ্গাটিয়া এলাকায় ঐতিহ্যবাহী জমিদার পরিবারের মৎস্য খামারে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মানবেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী চৌধুরীর মালিকানাধীন খামারে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ ও আটক:
মালিকপক্ষের দাবি, বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে স্থানীয় এক ব্যক্তি এই হামলা পরিচালনা করেন। ওই ব্যক্তি ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের কিছু সদস্যকেও দলে ভিড়িয়েছেন। এ ঘটনায় সাদ্দাম হোসেন (২৮) নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে, যিনি জেলা ছাত্রলীগের সদস্য বলে জানা গেছে। হামলায় অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
রোববার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন চন্দ্র সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিন্দ্য মণ্ডল এবং হোসেনপুর থানার ওসি মারুফ হোসেন।
ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানবেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর পানান বিলে প্রায় ৮৫ একর জায়গাজুড়ে আটটি মৎস্য খামার পরিচালিত হয়। কল্যাণী ফিশ প্রোডাক্টস লিমিটেড নামে যৌথ মালিকানাধীন খামারগুলোতে শনিবার রাতে শতাধিক সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা ঢাকা থেকে আসা মাছ ব্যবসায়ীদের তিনটি ট্রাক আটকে দেয় এবং কয়েক লাখ টাকা লুট করে। হামলাকারীরা মিছিল করে খামারের অফিসে ভাঙচুর চালায় এবং পাঁচটি মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত করে। বাধা দিতে গেলে খামারের অংশীদার মুখলেছুর রহমানসহ আরও কয়েকজনকে আক্রমণ করে। আহত তিনজনকে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মালিকপক্ষের অভিযোগ:
খামারের অংশীদার মুখলেছুর রহমান জানান, স্থানীয় গোলাপ মিয়ার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়। গোলাপ মিয়া বিএনপির নেতা হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে খামারের একটি অংশ দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ। তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরে গোলাপ মিয়া হুমকি ও চাঁদা দাবি করে আসছিলেন।
গোলাপ মিয়ার বক্তব্য:
গোলাপ মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি ২০১১ সাল থেকে এই খামারের অংশীদার। ২০২২ সাল পর্যন্ত তাদের লেনদেন ঠিক ছিল, তবে পরবর্তীতে প্রায় তিন কোটি টাকা পাওনা থাকা সত্ত্বেও তাকে খামার থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। শনিবার রাতে কারা হামলা চালিয়েছে তা তিনি জানেন না। তবে খামারের কাছাকাছি তিনটি মাছের ট্রাক আটকে দেওয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন।
বিএনপির অবস্থান:
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ঐতিহ্যবাহী একটি খামারে এমন ন্যক্কারজনক হামলার নিন্দা জানানো হচ্ছে। দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

