কিশোরগঞ্জের ৫৩ শতাংশ নারী কর্মসংস্থানের বাইরে।

প্রকাশিত: 8:12 PM, December 18, 2024

হাওর অধ্যুষিত জেলা কিশোরগঞ্জের ৫৩ শতাংশ নারী কর্মসংস্থানের বাইরে। নারীদের কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়ার হার অত্যন্ত কম। জেলার ৫৩ শতাংশ নারী কোনো কাজের সঙ্গে যুক্ত নন। মাত্র ১৭ শতাংশ নারী কোনো না কোনো ধরনের কাজে অংশগ্রহণ করছেন। এছাড়া, ৩৪ শতাংশ নারী কর্মসংস্থানের জন্য চেষ্টা করছেন। তবে অর্ধেকের বেশি নারী কাজের ক্ষেত্রে প্রবেশের কোনো উদ্যোগই নেন না।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে পরিচালিত “কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রমবাজার বিশ্লেষণ-২০২৪” শীর্ষক এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংলাপে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। সিপিডি, সেভ দ্য চিলড্রেন, ইউসেপ বাংলাদেশ এবং দ্যা আর্থ সোসাইটি যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিপিডির সদস্য ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নাসরীন আফরোজ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এবং জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী এ এস এম শামীম আলম।

গবেষণাটি কিশোরগঞ্জের ১৩ উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়নের ১,৭২৮ জন তরুণী ও নারীর মতামতের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুত করা হয়। এ ছাড়া, বিভিন্ন প্রশিক্ষক, শিক্ষক এবং চাকরিদাতাদের সাক্ষাৎকারও নেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, জেলাটিতে ৪৬ শতাংশ তরুণী শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ছেন। বর্তমানে ৮৭ শতাংশ কিশোরী এবং ৪২ শতাংশ তরুণী শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যারা চাকরিতে আছেন, তাদের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নিয়েছেন।

গবেষণা প্রতিবেদনের আলোচনায় খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “হাওর অধ্যুষিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জের নারীদের জন্য চাকরির বাজারে প্রবেশ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। এই জেলার শ্রমবাজারে প্রবেশের আগ্রহ ৩৪ শতাংশ নারীর মধ্যে সীমাবদ্ধ। এর জন্য ডিজিটাল লিটারেসি ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার প্রচলন জরুরি। স্বাস্থ্য খাত, ফ্রিল্যান্সিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।”

বিশেষ অতিথি সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, “শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থানের একটি মডেল তৈরি করা যেতে পারে। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”

প্রধান অতিথি নাসরীন আফরোজ জানান, “সরকার খাতভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। শুধু ডিগ্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”

সংলাপে সেভ দ্য চিলড্রেন ইন বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবিকা বিভাগের পরিচালক তানিয়া শারমিন বলেন, “নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারি-বেসরকারি এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। সমন্বয়ের অভাবে প্রশিক্ষণ গ্রহণের পরও অনেকে ঋণ পেতে ব্যর্থ হন। দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক খাতেও পরিবর্তন আনতে হবে।

ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে চোখ হারানো পাপিয়ার মৃত্যুর সঠিক বিচার দাবি!