জাহাজে ৭ খুন: একমাত্র উপার্জনক্ষম হারিয়ে অসহায় সালাউদ্দিন-আমিনুলের পরিবার

প্রকাশিত: 8:58 AM, December 25, 2024

চাঁদপুরে জাহাজে ৭ খুন: নিহতদের মধ্যে নড়াইলের দুই পরিবারের শোকের মাতম

চাঁদপুরের একমাত্র উপার্জনক্ষম হারিয়ে অসহায় মেঘনা নদীতে এমভি আল বাখেরাহ জাহাজে সাতজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে দুজনের বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। তাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চলছে শোকের মাতম।

লোহাগড়ার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের এগারোনলি গ্রামের বাসিন্দা সালাউদ্দিন মোল্লা প্রায় দুই দশক ধরে জাহাজে চাকরি করছিলেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম হারিয়ে অসহায়  তার মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসী শোকাহত।

সালাউদ্দিনের ছেলে নাঈম শেখ বলেন, “আমার বাবা আল বাখেরা জাহাজের ইঞ্জিন চালক ছিলেন। তার আয়ে আমাদের পুরো পরিবারের খরচ চলত। এখন আমরা দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”

৪০ বছর বয়সী সালাউদ্দিন মোল্লা মৃত আবেদ শেখের ছেলে।

সোমবার বিকালে হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী মেঘনা নদীতে জাহাজ থেকে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত তিনজনের মধ্যে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজন মারা যান। আরেকজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহতদের মধ্যে ফরিদপুর, মাগুরা, মুন্সীগঞ্জ, ও নড়াইলের আরও পাঁচজন রয়েছেন। লোহাগড়ার আরেকজন নিহত ব্যক্তি আমিনুল মুন্সী (৪১), যিনি লাহুড়িয়া ইউনিয়নের উত্তর লংকারচর গ্রামের বাসিন্দা।

লাহুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রানা কাজী বলেন, “সালাউদ্দিন ১৪ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে কাজে যান। তিনি ছিলেন অভাবের সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মা, স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়ে এখন চরম অসহায় অবস্থায় পড়েছে।”

আমিনুল মুন্সীর বড় ভাই হুমায়ুন মুন্সী জানান, “আমিনুল প্রায় ১২ বছর ধরে জাহাজে সুকানি হিসেবে কাজ করছিলেন। শুক্রবার বাড়ি থেকে কাজে যোগ দিয়েছিলেন, অথচ সোমবার তার মৃত্যুর খবর পেলাম। আমরা হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

নিহতদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর নিজ নিজ এলাকায় দাফন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।

জাহাজে ৭ খুনের ঘটনায় মামলা ও তদন্ত:
চাঁদপুরে এ ঘটনায় ১০ অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এটি ডাকাতির ঘটনা নয় বরং পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে।

কিশোরগঞ্জে নারী কর্মসংস্থান