
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চরকাটি হারী গ্রামের”প্রতিবন্ধী টুটুলের জীবনযুদ্ধ” প্রতিবন্ধী মো. টুটুল মিয়া নিজের জীবনে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও হার মানেননি। অন্যের উপর নির্ভর না করে, তিনি ছোট্ট একটি দোকানে ব্যবসা চালিয়ে তার দুই বোনের পড়াশোনার খরচ ও পরিবারের ব্যয়ভার বহন করছেন। বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে একটি ছোট ঘরে ব্যবসা করেই চলছে তার সংসার।
জানা গেছে, টুটুল স্বাভাবিক শিশুর মতোই জন্মগ্রহণ করেন এবং স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। একদিন হঠাৎ পড়ে গিয়ে পা ভেঙে গেলে, তিনি আর স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারেননি। বহু চিকিৎসা করেও তার পা স্বাভাবিক হয়নি এবং ধীরে ধীরে তা বিকল হয়ে যায়। তার শারীরিক আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে ৩৭ বছর বয়সে মাত্র ২৬ ইঞ্চি লম্বা হয়েছে তার দেহ। তবে এই শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি ৩০ বছর আগে থেকেই জীবনযুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি টুটুল তার বোনদের পড়াশোনার খরচ ও অসুস্থ বাবা-মার চিকিৎসার খরচ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, এবং দেনার দায়ে পড়েছেন। ছোট্ট দোকানে বসে ক্রেতাদের সেবা করে চলেছেন তিনি। ক্রেতারাও তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করছেন। এভাবেই নিজের জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি, থেমে নেই তার পথচলা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে টুটুল জানান, তার দুই বোনের স্বপ্ন উচ্চশিক্ষা অর্জন করে চাকরি করে স্বাবলম্বী হওয়া। এই স্বপ্ন পূরণ করতে পারলেই তার জীবন সার্থক হবে বলে মনে করেন তিনি। টুটুলের জীবন যেন জীবনের জন্য এক অনুপ্রেরণার গল্প, যেখানে প্রতিবন্ধকতাকে অতিক্রম করে তিনি জীবনযুদ্ধে টিকে আছেন।
স্থানীয়রা মনে করেন, সমাজের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিরা টুটুলের মতো যোদ্ধাদের সহযোগিতায় এগিয়ে এলে তারা একটু স্বস্তি পাবে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এহসানুল হক জানান, টুটুলকে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়েছে এবং তার মুদি দোকান সম্প্রসারণের জন্য বিনাসুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে।


