
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় ছাত্রী নিহত: ক্যাম্পাসজুড়ে বিক্ষোভ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় আফসানা করিম রাচি নামে এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী।
ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলাভবনের সামনে। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. ইউসুফ জানান, আফসানাকে রাত পৌনে আটটার দিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। দুর্ঘটনায় তাঁর মুখে মারাত্মক আঘাত লেগেছিল।
ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা আট দফা দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান আট দফা দাবি:
- কাঠামোগত হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যথাযথ বিচার।
- পর্যাপ্ত সড়কবাতি, ফুটপাথ এবং গতিরোধক স্থাপন।
- যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে গতি পরিমাপক বসানো।
- নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ।
- মেডিকেল সেন্টারের জরুরি সেবার মানোন্নয়ন।
- নিবন্ধনহীন যানবাহন নিষিদ্ধকরণ এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত।
- রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
- ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্যামেরা সচলকরণ এবং অদক্ষ নিরাপত্তাকর্মী প্রত্যাহার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা অভিযুক্ত চালককে শনাক্ত করার কাজ করছি এবং ক্যাম্পাসের যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছি।”
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ
রাত ৯টার দিকে বটতলা থেকে মিছিল শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। বিক্ষোভে বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
আফসানার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন। ছাত্রশিবির জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।


