মর্মন্তুদ: কলাপাড়ায় ইমামের স্ত্রীকে গলা কেটে নৃশংস হত্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

প্রকাশিত: 11:33 AM, November 17, 2025

মর্মন্তুদ: কলাপাড়ায় ইমামের স্ত্রীকে গলা কেটে নৃশংস হত্যা, আতঙ্কে স্থানীয়রা

 

বিশেষ প্রতিনিধি bdnewsnetwork.com প্রকাশ: ১৭ নভেম্বর ২০২৫

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ঘটে গেল এক নৃশংস ও লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। গত রবিবার সন্ধ্যায় চাকামইয়া ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে মুকুল বেগম (৫০) নামের এক গৃহবধূকে। এই হত্যাকাণ্ডের বীভৎসতা স্থানীয়দের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। নিহত মুকুল বেগম চাকামইয়া ইউনিয়নের মৌলভীরতবক গ্রামের জামে মসজিদের ইমাম হাবিবুর রহমান তালুকদারের দ্বিতীয় স্ত্রী।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

 

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। মুকুল বেগমের স্বামী হাবিবুর রহমান তালুকদার ঘটনার সময় গ্রামের মসজিদে নামাজ পড়ানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাদের একমাত্র ২০ বছর বয়সী সন্তান মুসা তালুকদারও তখন বাড়িতে ছিলেন না।

নিহত মুকুল বেগমের স্বামী হাবিবুর রহমান তালুকদার অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে জানান, তাঁর প্রথম স্ত্রী বেশ আগেই মারা যান। মুকুল বেগম ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। ঘটনার দিন দুপুরেও মুকুল বেগম স্বামীকে ভাত বেড়ে খাইয়েছেন। এরপর তিনি মসজিদে চলে যান। ইমাম সাহেব শোকে বিহ্বল হয়ে বলেন, “পোলাডায়ও বাড়িতে আছেলো না। এই পাশবিক ঘটনাটা কীভাবে ঘটলো, আমি কিছুই বলতে পারবো না। আমার সব শেষ করে দিয়েছে।”

মুকুল বেগমের দেবরের ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার জানান, তাদের মূল বসতঘরটি ভাঙা থাকায় এবং নতুন ঘর নির্মাণের কাজ চলায়, তাঁরা সাময়িকভাবে বাড়ির পাশের রান্নাঘরে বসবাস করছিলেন। এই পরিস্থিতিতেই নৃশংসতা ঘটল।

যেভাবে জানা গেল হত্যাকাণ্ড

 

ঘটনার ভয়াবহতা প্রকাশ পায় যখন প্রতিবেশী এক নারী গৃহস্থালির কাজের জন্য মুকুল বেগমের কাছে যান। রান্নাঘরের মেঝেতে তিনি মুকুল বেগমের গলাকাটা নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এই দৃশ্য দেখে তিনি আর্তনাদ করে ওঠেন। তার চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।

খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কলাপাড়া থানা পুলিশ। কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইলিয়াস তালুকদার এই মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে জানান, খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া মেনে আজ সোমবার মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। তবে আটককৃত ব্যক্তির পরিচয় এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

এলাকায় শোক ও পুলিশের তদন্ত

 

এই ধরনের একটি হত্যাকাণ্ড, বিশেষ করে একজন ইমামের স্ত্রীকে এমন নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনা পুরো এলাকায় গভীর শোক ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকৃত খুনিদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে পারিবারিক বিরোধ, সম্পত্তির দ্বন্দ্ব, নাকি অন্য কোনো জটিল কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে তারা জোরেশোরে তদন্ত শুরু করেছে। তারা বিভিন্ন দিক মাথায় রেখে ঘটনার রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছেন এবং আটককৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড কেবল একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। দ্রুততম সময়ে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হোক এবং অপরাধীরা বিচারের আওতায় আসুক—এটাই এখন সবার প্রত্যাশা।