সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে রয়েছে ‘শূন্যতা’

প্রকাশিত: 7:38 PM, November 7, 2024
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোর অনেকেই জনবল,সরকারি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটি যন্ত্রপাতি এবং নিরাপত্তার অভাবে সমস্যার মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে নতুন একটি সমস্যা যোগ হয়েছে—সরকারের পটপরিবর্তনের পর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে শূন্যতা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে গত ৩০ অক্টোবর স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে সরকারি হাসপাতালের পরিচালকরা এসব তথ্য তুলে ধরেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত বৈঠকে সারা দেশের স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় জানা যায়, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটি জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গঠন করা হয়। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক কমিটির সভাপতি পদ শূন্য হয়ে পড়েছে, কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কমিটির সভাপতির পদে জনপ্রতিনিধি বা রাজনৈতিক ব্যক্তির উপস্থিতি নেই।

প্রাক্তন সরকারের ১৩ জুনের প্রজ্ঞাপনের অনুযায়ী, দেশের ৮৩টি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং জেলা সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতির পদে সাবেক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা মনোনীত ছিলেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং গণঅভ্যুত্থানের পর বেশিরভাগ কমিটির সভাপতির পদ শূন্য রয়েছে।

বৈঠকে অংশগ্রহণকারী হাসপাতাল পরিচালকরা জানায়, তারা বর্তমানে এসব শূন্য পদ পূরণের জন্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন। মুগদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হাসিবুল ইসলাম সবুজ জানান, তার হাসপাতালেও সভাপতির পদ শূন্য, এবং তারা আগের কমিটি নিয়ে একাধিক সভা করেও কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি।

এ সময় নুরজাহান বেগম রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাসপাতাল কমিটির সভাপতি পদে রাখা নিয়ে পরিচালকদের মতামত জানতে চান। রাজশাহী এবং সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকরা জানান, বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কমিটিতে রাখা হলে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক প্রস্তাব দেন, বিভাগীয় কমিশনারদের মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলোর ব্যবস্থাপনা কমিটিতে সভাপতি হিসেবে রাখা যেতে পারে।

হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ও জনবল সংকটও আলোচিত হয় বৈঠকে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক জানান, যেকোনো সময় ক্যাথল্যাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে, এবং খরচ করার জন্য আরও অর্থ বরাদ্দের প্রয়োজন। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের পরিচালক জানায়, তাদের চক্ষু বিভাগের অপারেশন থিয়েটার আগুনে পুড়ে গেছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক একটি নতুন এনজিওগ্রাম যন্ত্রের জন্য অনুরোধ করেন।

নিরাপত্তার অভাবও একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজশাহী এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকরা জানান, আনসারের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে হাসপাতালগুলোতে নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এসময় নুরজাহান বেগম পরামর্শ দেন, যন্ত্রপাতির অভাব এবং জনবল সংকটের ক্ষেত্রে সমন্বয় করে অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি অন্য হাসপাতালে পাঠানো যেতে পারে। তিনি জানান, কিছু হাসপাতালের যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত না হয়ে পড়ে থাকলে, সেগুলো অন্য হাসপাতালগুলোতে পাঠানো হবে।

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে, তিনি মিটফোর্ড হাসপাতালের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যেখানে স্থানীয় অংশীজনদের সাথে নিয়ে নিরাপত্তা সমস্যা সমাধান করা হয়েছে।

সেবা মান উন্নয়নেও বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যেমন: রোগী ও দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করা, রোগীদের কার্ড প্রদান করে প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা, এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগে অন্যান্য হাসপাতালের সহযোগিতা নেওয়া।

আগরতলায় বন্ধ রয়েছে বাংলাদেশের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা।