শেখ হাসিনা-আসাদুজ্জামানের আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল: বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাষ্ট্রপক্ষের উদ্যোগ

প্রকাশিত: 2:17 PM, December 15, 2025

শেখ হাসিনা মৃত্যুদণ্ড আপিল

ঢাকা: ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ [bdnewsnetwork.com]

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে ঘটে যাওয়া এক বিশাল পটপরিবর্তন, যা ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’ নামে পরিচিত, সেই সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সাজা বৃদ্ধি চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রায়ে একটি অভিযোগে এই দুই ক্ষমতাধর ব্যক্তিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, সেই সাজা পরিবর্তন করে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর ২০২৫) এই গুরুত্বপূর্ণ আপিলটি দায়ের করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষের এই পদক্ষেপ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ভুক্তভোগী পরিবার এবং বিচারপ্রার্থী আপামর জনগণের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

প্রসিকিউশনের যুক্তি: কেন সাজা বৃদ্ধি আবশ্যক?

আপিলের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে এক ব্রিফিংয়ে প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি ভিন্ন অভিযোগে শাস্তি প্রদান করেছিলেন— একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্যটিতে মৃত্যুদণ্ড। আমরা মনে করি, যে অভিযোগে তাঁদের আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেই অপরাধের গুরুত্ব, প্রকৃতি এবং ব্যাপকতা বিবেচনা করলে ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাঁদের শাস্তি বৃদ্ধি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত।”

প্রসিকিউটর তামীম নিশ্চিত করেন যে, আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাড়িয়ে দুজনেরই মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই আপিলটি দায়ের করা হয়েছে। আপিল আবেদনে প্রসিকিউশন মোট আটটি সুনির্দিষ্ট গ্রাউন্ড বা যুক্তি উত্থাপন করেছে, যা এই মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতরতা তুলে ধরবে।

মামলার সময়রেখা এবং পরবর্তী ধাপ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই চাঞ্চল্যকর মামলাটির রায় ঘোষণা করা হয়েছিল গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কর্তৃক। রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি হাতে পাওয়ার পরই প্রসিকিউশন দ্রুততম সময়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নেয়। আইন অনুযায়ী, এই আপিলটি ৬০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে, এবং আশা করা হচ্ছে অবকাশকালীন ছুটির পরই এটি চেম্বার আদালতে নিষ্পত্তির জন্য উঠবে।

ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে একটি অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং আরেকটি অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউশনের দাবি, আমৃত্যু কারাদণ্ডের অভিযোগটিও ছিল অত্যন্ত জঘন্য এবং অসংখ্য মানুষের হতাহতের সঙ্গে সম্পর্কিত, যেখানে উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটনে ইন্ধন জোগানো হয়েছিল। এহেন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডই একমাত্র ন্যায্য শাস্তি বলে মনে করে রাষ্ট্রপক্ষ।

এই আপিলের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে, যেখানে ক্ষমতা ও দাপটের ঊর্ধ্বে উঠে বিচার নিশ্চিত করার এক দৃঢ় অঙ্গীকার প্রতিফলিত হচ্ছে। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত এখন সমগ্র জাতির মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে।