বিদ্রোহের আগুন: কিশোরগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে মঞ্চে চার মনোনয়নবঞ্চিত নেতার তীব্র বিক্ষোভ

প্রকাশিত: 10:52 AM, December 8, 2025
https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

কিশোরগঞ্জ-১ বিএনপি বিদ্রোহ

[bdnewsnetwork.com]

কিশোরগঞ্জ (সদর ও হোসেনপুর): একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর ও হোসেনপুর) আসনে বিএনপি ঘোষিত প্রার্থীর বিরুদ্ধে তীব্র অসন্তোষ ও বিদ্রোহের আগুন দেখা দিয়েছে। দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত চার প্রবীণ নেতা এক মঞ্চে এসে বর্তমান মনোনীত প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে একযোগে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে শুধু চাঞ্চল্যই সৃষ্টি করেনি, বরং জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে।

চার নেতার ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ

গতকাল রবিবার (০৭ ডিসেম্বর ২০২৫) সন্ধ্যার দিকে মনোনয়নবঞ্চিত চার নেতা— জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান (চুন্নু), সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল) এবং সাবেক সহসভাপতি রুহুল হোসাইন— প্রথমে শহরের দুটি পৃথক স্থানে সমাবেশ করেন। পরে তাঁরা একত্রিত হয়ে এক মঞ্চে আসেন এবং বিক্ষোভ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। এই চার হেভিওয়েট নেতার এক রিকশায় চড়ে শহরের প্রধান সড়কগুলোতে বিক্ষোভ মিছিলের দৃশ্য স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।

️ ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

গত বৃহস্পতিবার (০৪ ডিসেম্বর ২০২৫) কিশোরগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হয়। অথচ, এই আসনে অন্তত আটজন শক্তিশালী মনোনয়নপ্রত্যাশী সক্রিয় ছিলেন। মনোনয়ন ঘোষণার পর থেকেই মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বঞ্চিত নেতারা ও তাঁদের সমর্থকরা।

গতকালকের সমাবেশ থেকে বক্তারা মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামকে সরাসরি ‘অযোগ্য’ আখ্যায়িত করেন। তাঁদের অভিযোগ, মাজহারুল ইসলামের মনোনয়নের পেছনে জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমেরষড়যন্ত্র’ রয়েছে। অবিলম্বে এই ‘অযোগ্য’ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করে ‘যোগ্য ও ত্যাগী’ কোনো নেতাকে মনোনীত করার দাবি জানানো হয়।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে সাবেক সহসভাপতি রেজাউল করিম খান (চুন্নু) স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা দেন, “এটা আমার শেষ নির্বাচন। কাজেই এই নির্বাচনে অবশ্যই অংশ নেব।” তাঁর এই বক্তব্য স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনের ইঙ্গিত বহন করে, যা বিএনপির জন্য এক অশনি সংকেত।

কুশপুত্তলিকা দাহ ও স্লোগান

চার নেতার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় মিছিলে জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলম ও মনোনীত প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে স্টেশন রোড এলাকায় জেলা বিএনপির সভাপতি শরীফুল আলমের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এই ঘটনা স্থানীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

মনোনীত প্রার্থী ও সভাপতির প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম বলেন, “বড় দলে অনেক প্রার্থী থাকাটাই স্বাভাবিক। সবাইকে তো আর মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। আমার প্রতি দলের আস্থা আছে বলেই মনোনয়ন দিয়েছে। রাজনীতির শিষ্টাচার ও শালীনতা বজায় রাখা উচিত।”

অন্যদিকে, জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি মনে করি, দল যোগ্য লোককেই মনোনয়ন দিয়েছে। সবাইকে শান্ত থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে তাঁর জন্য কাজ করা উচিত। এমন কিছু করা ঠিক নয়, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। আমাদের সবার মনে রাখতে হবে, দেশনেত্রী এখন অসুস্থ। আন্দোলন-সংগ্রাম রেখে তাঁর জন্য দোয়া করা উচিত।”

সংকটে বিএনপি: স্থানীয় নেতৃত্ব ও কেন্দ্রের ভূমিকা

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে মনোনয়ন নিয়ে এই প্রকাশ্য বিদ্রোহ প্রমাণ করে যে, বিএনপি স্থানীয় পর্যায়ে বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য নিবেদিত নেতারা মনোনয়ন বঞ্চিত হওয়ায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান হয়ে উঠেছেন। দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কীভাবে এই বিদ্রোহ দমন করে এবং ঐক্য ফিরিয়ে আনে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। অন্যথায়, এই বিভেদ আসন্ন নির্বাচনে দলের ফলাফলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।