৬ রুটে ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি: ২০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর, কোন রুটে কত টাকা বাড়ছে?

প্রকাশিত: 11:11 AM, December 9, 2025
https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

ট্রেনের ভাড়া বৃদ্ধি!

প্রকাশিত: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | ওয়েবসাইট: bdnewsnetwork.com

প্রায় নয় বছর পর বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ট্রেনের টিকিটের দামে পরিবর্তন আসছে। তবে সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে, এবার ‘পন্টেজ চার্জ’ বা বিশেষ মাশুল আরোপের মাধ্যমে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নতুন সিদ্ধান্ত আগামী ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে কার্যকর হবে। ট্রেন ও আসনভেদে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত এই ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। রেলওয়ের এই কৌশলগত পরিবর্তন যাত্রীদের উপর কেমন প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

ভাড়া বৃদ্ধির কৌশল: পন্টেজ চার্জ কী?

রেলওয়ের ভাষায়, রেলপথের ওপর নির্মিত ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের যেকোনো সেতু বা সমজাতীয় অবকাঠামোকে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে বিবেচনা করা হবে—এটাই হলো ‘পন্টেজ চার্জ’। এর ফলে কাগজে-কলমে পথের দূরত্ব বেড়ে যাবে এবং সেই বর্ধিত দূরত্বের অনুপাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মাশুল নেওয়া হবে। রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানিয়েছেন, মূলত পুরোনো এবং দীর্ঘ সেতুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ মেটানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

কোন রুটে কত ভাড়া বাড়ল?

এই ভাড়া বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে কার্যকর হচ্ছে। নিচে সেই রুটগুলোর বর্ধিত ভাড়ার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

১. ঢাকা-চট্টগ্রাম রুট: ৩৫ কিমি দূরত্ব বৃদ্ধি

সবচেয়ে বেশি চাহিদা ও গুরুত্বের এই রুটে দূরত্ব ৩৪৬ কিমি থেকে বেড়ে ৩৮১ কিমি হয়েছে।

  • মেইল ট্রেন (সাধারণ): ভাড়া ১৩৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৫০ টাকা (১৫ টাকা বৃদ্ধি)।

  • শোভন চেয়ার: ৪০৫ টাকা থেকে বেড়ে ৪৫০ টাকা (৪৫ টাকা বৃদ্ধি)।

  • আন্তঃনগর (স্নিগ্ধা): ৭৭৭ টাকা থেকে বেড়ে ৮৫৭ টাকা (৮০ টাকা বৃদ্ধি)।

  • বিরতিহীন (এসি বার্থ): ১,৫৯০ টাকা থেকে বেড়ে ১,৭৪৬ টাকা।

২. ঢাকা-কক্সবাজার রুট: সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

পর্যটক এক্সপ্রেসের মতো জনপ্রিয় ট্রেনের ভাড়া এই রুটে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

  • স্নিগ্ধা আসন: ১,৩২২ টাকা থেকে বেড়ে ১,৪৪৯ টাকা (১২৭ টাকা বৃদ্ধি)।

  • এসি বার্থ: ২,৪৩০ টাকা থেকে বেড়ে ২,৬৫৬ টাকা (২২৬ টাকা বৃদ্ধি)।

৩. ঢাকা-সিলেট রুট

  • শোভন চেয়ার: ৩৫ টাকা বেড়ে ৪১০ টাকা।

  • স্নিগ্ধা আসন: ৭১৯ টাকা থেকে বেড়ে ৭৮৮ টাকা।

  • এসি বার্থ: ১২৭ টাকা বেড়ে ১,৪৬৫ টাকা।

৪. চট্টগ্রাম-সিলেট রুট

  • শোভন চেয়ার: ২৫ টাকা বৃদ্ধি।

  • এসি বার্থ: ৮৭ টাকা বেড়ে ১,৬৭৮ টাকা।

৫. চট্টগ্রাম-জামালপুর রুট

  • শোভন চেয়ার: ৫২৫ টাকা থেকে ৫৪৫ টাকা।

  • এসি সিট: ৪৬ টাকা বেড়ে ১,২৫৪ টাকা।

৬. ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ রুট

এই রুটে সর্বনিম্ন ৫ টাকা ভাড়া বেড়েছে।

  • কমিউটার ট্রেন: ১০৫ টাকা থেকে বেড়ে ১১০ টাকা (৫ টাকা বৃদ্ধি)।

  • শোভন চেয়ার: ২৫০ টাকা থেকে ২৫৫ টাকা।

যাত্রী ও বিশেষজ্ঞ মহলের প্রতিক্রিয়া

টিকিটের মূল্য সরাসরি না বাড়িয়ে ‘পন্টেজ চার্জ’ আরোপের মাধ্যমে কৌশলে ভাড়া বাড়ানো নিয়ে যাত্রী ও বিশেষজ্ঞ মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, “কৌশলে ভাড়া বৃদ্ধি করে যাত্রীদের ওপর চাপ তৈরি করা হয়েছে। রেলওয়ের উচিত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও অনিয়ম বন্ধ করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর দিকে নজর দেওয়া, ভাড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে নয়।”

অন্যদিকে, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারের নির্দেশনা মেনেই এই সমন্বয় করা হয়েছে এবং বর্ধিত ভাড়া খুব বেশি নয়। এই সিদ্ধান্তটি রেলওয়ের আয় বাড়াতে এবং পুরোনো অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।