নদীর পাড়ের ঝুপড়িতে একসঙ্গে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার, কী ঘটেছিল রাতে?

প্রকাশিত: 12:26 PM, November 11, 2025

পটুয়াখালীর মহিপুরে ঝুপড়ি ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার: হত্যার সন্দেহ পুলিশের

https://www.effectivecpmnetwork.com/iaby930p4?key=6afc5158429eeea2b49232e9ee38eda7

 

 

[bdnewsnetwork.com]পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের পেয়ারপুর গ্রামে নদীর পাড়ে থাকা একটি ঝুপড়ি ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ভোররাতে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা এবং পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এর পেছনে গভীর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মহিপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, নিহতরা হলেন সিরাজউদ্দিন খান (৭৫) এবং তাঁর স্ত্রী আকলিমা বেগম (৬৫)। সিরাজউদ্দিনের বাড়ি মহিপুর সদর ইউনিয়নের মোয়াজ্জেমপুর গ্রামে হলেও, তিনি তাঁর তৃতীয় স্ত্রী আকলিমাকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের পেয়ারপুর গ্রামে আন্ধারমানিক নদীর তীরে তৈরি করা একটি ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। জীবিকার তাগিদে সিরাজউদ্দিন খান নদীতে খেয়া (নৌকা) চালাতেন।

 

প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান ও আঘাতের চিহ্ন

 

স্থানীয় বাসিন্দা বাদল তালুকদার সকালে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় সিরাজউদ্দিনকে দেখতে না পেয়ে তাঁর ঘরের দিকে যান। ঘরের দরজা খোলা থাকায় তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন এবং সেখানে ভয়ংকর দৃশ্য দেখতে পান। বাদল তালুকদার জানান, সিরাজউদ্দিন খান মাটিতে এবং তাঁর স্ত্রী আকলিমা বেগম চৌকির ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তাঁর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসে এবং সঙ্গে সঙ্গেই মহিপুর থানায় খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, নিহত সিরাজউদ্দিনের গলার নিচে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালো দাগ দেখা গেছে। এছাড়া, ঘরের মেঝেতে রক্তের ছোপ পাওয়া যায়। স্ত্রী আকলিমার শরীরেও রক্তের দাগ ছিল। দেহের এই আঘাতের চিহ্নগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এই মৃত্যু কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নয়।

 

‍♀️ পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ও সিআইডি তদন্ত

 

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। তিনি নিশ্চিত করেন, প্রাথমিকভাবে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে করা হচ্ছে না। ওসি আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ইতোমধ্যে পটুয়াখালী থেকে সিআইডি (CID) টিমকে তলব করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো মর্গে পাঠানো হয়েছে। ওসি মাহমুদ হাসান বলেন, ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্ট আসার পরই স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং এর পেছনে কোনো তৃতীয় পক্ষ জড়িত আছে কি না, সে সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানা যাবে। এই ঘটনা কি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড? নাকি এর পেছনে অন্য কোনো জটিল রহস্য লুকিয়ে আছে? ঘটনার জট খুলতে পুলিশ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।