
বেগম রোকেয়া পদক ২০২৫?
প্রতিবেদক, bdnewsnetwork.com
ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রতি বছর এই দিনটি আসে এক গভীর শ্রদ্ধা আর আনন্দের বার্তা নিয়ে। আমরা স্মরণ করি নারী জাগরণের আলোর দিশারী বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন-কে। আর তাঁরই নামে দেশের যে সর্বোচ্চ সম্মাননা দেওয়া হয়—’বেগম রোকেয়া পদক’—তাতে এবার যুক্ত হলো এক নতুন ইতিহাস, এক দারুণ স্বপ্নের গল্প।
এই বছর চারজন অসাধারণ নারীর হাতে উঠতে চলেছে এই পদক, যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে সমাজের জন্য আলো ছড়িয়েছেন। তবে আমাদের সবার নজর কেড়েছেন একজন—যাঁর পায়ের জাদুতে মুগ্ধ পুরো দেশ, সেই তারকা ফুটবলার ঋতুপর্ণা চাকমা।
⚽ ফুটবল মাঠের যোদ্ধা, বাস্তবের আইকন
ঋতুপর্ণা, নামটি শুনলেই মনে আসে সবুজ মাঠে বিজয়ের হাসি। কিন্তু এই হাসি সহজে আসেনি। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে আসা এই মেয়েটির পথ ছিল কাঁকরে ভরা। সমাজ, পরিবার—সব জায়গাতেই ছিল হাজারো বাধা। কিন্তু পায়ে ফুটবল তুলে নেওয়ার যে অদম্য জেদ ছিল, তাতেই তিনি সব প্রতিকূলতা মাড়িয়ে এখন দেশের নারী সমাজের কাছে এক সাহসের প্রতীক।
তাঁর সাফল্যের কথা কি আর নতুন করে বলতে হয়?
-
গত বছর সাফের ফাইনালে নেপালকে হারানোর সেই গোলটা! যা পুরো দেশকে আনন্দে ভাসিয়েছিল।
-
আর কিছুদিন আগেই মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাঁর সেই জোড়া গোল! প্রতিটি গোলই যেন শুধু জালে বল জড়ানো নয়, বরং নারীর এগিয়ে যাওয়ার একেকটি ঘোষণা।
ঋতুপর্ণার এই সম্মাননা এটাই প্রমাণ করে যে, খেলাধুলা এখন শুধু বিনোদন নয়—এটি নারী মুক্তির এক শক্তিশালী মাধ্যম। তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য এখন শুধু ফুটবল দলের নয়, বরং বাংলাদেশের নারী জাগরণেরই একটি নতুন মাইলফলক।
আলোর দিশারী যাঁরা
ঋতুপর্ণার পাশাপাশি সমাজের আরও তিন মহীয়সী নারী তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন, যাঁদের হাতে কাল উঠবে এই পদক:
-
ড. রুভানা রাকিব: যিনি নারী শিক্ষার প্রসার ও মান উন্নয়নে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
-
কল্পনা আক্তার: শ্রমজীবী নারীদের অধিকার আদায়ের কঠিন লড়াইয়ে যিনি সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
-
ড. নাবিলা ইদ্রিস: যিনি নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন মানুষের মৌলিক মানবাধিকার রক্ষায়।
এই চারজন যেন দেশের নারী শক্তির ভিন্ন ভিন্ন প্রতিচ্ছবি—তাঁরা আমাদের দেখালেন, ইচ্ছা থাকলে সব ক্ষেত্রেই বিজয় সম্ভব।
একুশে পদক থেকে রোকেয়া পদক: নারী ফুটবলের জয়যাত্রা
ক্রীড়াঙ্গনে এই পদকপ্রাপ্তি এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। একসময় ক্রীড়াবিদদের এই পদক কমই দেওয়া হতো (গত বছর দাবাড়ু রাণী হামিদ পেয়েছিলেন)। কিন্তু এইবার ঋতুপর্ণার এই স্বীকৃতি নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক নতুন দরজা খুলে দিলো।
মনে পড়ে, এর আগেই ২০২৫ সালে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল দলগতভাবে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার ‘একুশে পদক’ পেয়েছিল? সেটিও ছিল এক ঐতিহাসিক ঘটনা—দল হিসেবে প্রথমবার কোনো ক্রীড়া দল এই সম্মান অর্জন করে। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় ঋতুপর্ণার এই ‘রোকেয়া পদক’ লাভ নারী ফুটবলারদের জন্য জাতীয়ভাবে এক দারুণ সম্মান।
এই পদক কেবল একটি স্বীকৃতি নয়; এটি আমাদের দেশের প্রত্যেক নারী ক্রীড়াবিদকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে, আরও জোরে ছুটতে এবং সমাজের সব বাধা ভেঙে ফেলার প্রেরণা যোগাবে। আগামীকাল, ৯ ডিসেম্বর, যখন এই পুরস্কার হস্তান্তর করা হবে, তখন আমরা সবাই ঋতুপর্ণার জয়যাত্রার অংশীদার হব।


