
সিরিজ জয়েই বাংলাদেশের সেরা বছর শেষ, বিশ্বকাপে আগে বড় স্বস্তি!
মাহমুদুল হাসান
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, [bdnewsnetwork.com]
ক্রিকেট মাঠে বাংলাদেশের জন্য স্মরণীয় একটি বছর শেষ হলো বড় এক জয় দিয়ে। চট্টগ্রামে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে দাপুটে পারফরম্যান্স দেখিয়ে সিরিজ ২-১-এ জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সাল বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ জেতার বছর হিসেবে চিহ্নিত হলো। বিশ্বকাপের আগে নিজেদের শেষ ম্যাচে এমন একটি জয় টাইগারদের ড্রেসিংরুমে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে। বিশেষ করে সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর এই প্রত্যাবর্তনে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে বহুগুণ।
বোলারদের দাপট: আয়ারল্যান্ড ১১৭ রানে অলআউট
বাংলাদেশের জয়ের পথটা সহজ করে দিয়েছিলেন বোলাররাই। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে আয়ারল্যান্ডকে মাত্র ১১৭ রানে অলআউট করে দেয় স্বাগতিকরা। যদিও শুরুটা ভালোই করেছিল আইরিশরা। পল স্টার্লিং ও টিম টেক্টরের ব্যাটে উদ্বোধনী জুটিতে আসে ২৪ বলে ৩৮ রান। কিন্তু শরীফুল ইসলাম সেই জুটি ভাঙার পর আয়ারল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে ধস নামে।
পাওয়ারপ্লে শেষ হওয়ার আগেই মোস্তাফিজুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে আইরিশদের রানের গতিতে লাগাম টানেন। এরপর টানা ৪১ বল কোনো বাউন্ডারি না পেয়ে চাপে ভেঙে পড়ে আয়ারল্যান্ড। ডেথ ওভারগুলোতে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে ইনিংসের এক বল বাকি থাকতেই অলআউট হয় তারা।
এই ম্যাচে নজর কেড়েছেন স্পিনার রিশাদ হোসেন, যিনি একাদশে ফিরে তুলে নেন ৩টি উইকেট। একটি দারুণ গুগলিতে কার্টিস ক্যাম্পারকে বোল্ড করে তিনি জানান দেন নিজের সামর্থ্যের। এছাড়া পেসার মোস্তাফিজুর রহমান মাত্র ১১ রান দিয়ে শিকার করেন ৩টি উইকেট। বোলারদের এই সম্মিলিত পারফরম্যান্সই মূলত বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়।
ব্যাটে-ফিল্ডিংয়ে তানজিদ ঝড়: বিশ্বরেকর্ড ও হাফ সেঞ্চুরি
তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল তারকা ছিলেন তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসান। ব্যাট হাতে তিনি যেমন দলের জয় নিশ্চিত করেছেন, তেমনই ফিল্ডিংয়ে গড়েছেন এক অসাধারণ বিশ্ব রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এক ম্যাচে ৫টি ক্যাচ নিয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। জর্জ ডকরেল, স্টিফেন ডেলানি, মার্ক অ্যাডায়ার, ম্যাথু হ্যামফ্রিস এবং বেনজামিন হোয়াইটস—এই পাঁচজনের ক্যাচ তালুবন্দি করেন তিনি।
এরপর ব্যাট হাতেও তানজিদ ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাত্র ৪৩ বলে অপরাজিত ৫১ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন তিনি। ক্রেইগ ইয়ংয়ের বলে ছক্কা মেরে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন তানজিদ। এই রান তাড়া করতে বাংলাদেশকে হারাতে হয়েছে মাত্র ২ উইকেট। লিটন দাস (৭ রান) এবং সাইফ হাসান (১৯ রান) দ্রুত আউট হলেও, তানজিদ হাসানের পরিণত ইনিংস এবং শেষদিকে তাওহিদ হৃদয়ের (২৫*) সাথে তাঁর অবিচ্ছিন্ন জুটি সহজে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। বাংলাদেশ ১৩.৪ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয়। তানজিদ হাসান স্বাভাবিকভাবেই ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার অর্জন করেন।
এই জয় বিশ্বকাপের আগে দলের আত্মবিশ্বাসকে আরও বাড়িয়ে দেবে। ২০২৩ সালের সাফল্যের ধারা বজায় রেখে বাংলাদেশ এখন বিশ্ব মঞ্চে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে।


