
মেসিকে নিয়ে কলকাতার দুই মন্ত্রীর লড়াই!
খেলা ডেস্ক, bdnewsnetwork.com
১৩ ডিসেম্বর ২০২৫,
মেসিকে নিয়ে কলকাতার দুই মন্ত্রীর লড়াই! বিশ্বকাপজয়ী তারকা লিওনেল মেসিকে এক ঝলক দেখার জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করে কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে এসেছিলেন ভক্তরা। কিন্তু মেসিকে ঠিকভাবে দেখতে না পারার ক্ষোভেই শনিবার সন্ধ্যায় সেই স্টেডিয়াম মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাঙচুর, লুটপাট এবং চরম বিশৃঙ্খলায় শেষ হয় মেসির ভারত সফরকে ঘিরে তৈরি হওয়া উত্তেজনা। ঘটনায় উদ্যোক্তা শতদ্রু দত্তকে পুলিশ আটকও করেছে। এই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলার কারণ খুঁজতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু নেপথ্যে কী ছিল? ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো খুঁজে বের করেছে, এই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে মূলত দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীর মধ্যে মেসিকে ‘দখল’ করার লড়াই এবং নিয়ন্ত্রণহীন ভিআইপি সংস্কৃতি।
দুই মন্ত্রীর ‘দখল’ লড়াইয়ের শুরু
কলকাতার একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এই বিপর্যয়ের মূলে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু এবং ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের রেষারেষি। আনন্দবাজার পত্রিকা তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মেসি কলকাতা বিমানবন্দরে পা রাখার পর থেকেই তাঁকে নিজের ‘দখলে’ নেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন সুজিত বসু। মেসি যে হোটেল হায়াত রিজেন্সিতে উঠেছিলেন, সেখানে নাকি ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে খুব একটা ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। সুজিত বসু তাঁর পছন্দের লোকজনকে নিয়ে সপরিবারে হোটেলে ছিলেন। এমনকি নিজের ক্লাব শ্রীভূমির সামনে মেসির ৭০ ফুটের মূর্তি উন্মোচন থেকে শুরু করে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপচারিতা—সবখানেই দমকলমন্ত্রী ছিলেন সক্রিয়।
️ স্টেডিয়ামে গিয়ে ঢাকা পড়লেন মেসি!
অন্যদিকে, ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস নিজের প্রভাব খাটাতে চেয়েছিলেন স্টেডিয়ামে। তিনি নাকি মেসি মাঠে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর দলবল নিয়ে ঘিরে ধরেন। উদ্যোক্তা, ফুটবল কর্মকর্তা, এবং টালিউডের পরিচিত মুখসহ মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে, স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে থাকা দর্শকরা যাকে দেখতে চড়া দামে টিকিট কেটেছিলেন, সেই মেসিই সম্পূর্ণ ঢাকা পড়ে যান। ইন্ডিয়া টুডে এবং এনডিটিভিও তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রণহীন ভিআইপি, কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও আমন্ত্রিত অতিথিদের ভিড়ের কারণেই গ্যালারির দর্শকদের কাছে মেসি কার্যত অদৃশ্য হয়ে যান।
ফলস্বরূপ ভাঙচুর ও লুটপাট
এই চরম হতাশার ফল ছিল ভয়ঙ্কর। মেসিকে দেখতে না পাওয়ার ক্ষোভে দর্শকরা চেয়ার ভেঙে মাঠে ছুঁড়তে শুরু করেন, ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। পরিস্থিতি দ্রুত পুলিশের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বেষ্টনী ভেঙে হাজার হাজার দর্শক মাঠে নেমে আসেন এবং মাঠের দখল নেন। ক্ষুব্ধ জনতা যা পেরেছেন, তাই লুট করে নিয়ে গেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক দর্শক স্টেডিয়ামের কার্পেট কাঁধে করে নিয়ে যাচ্ছেন! তিনি জানান, ১০ হাজার টাকা দিয়েও তিনি শুধু নেতাদের মুখ দেখেছেন, মেসির মুখ দেখতে পাননি। তাই টিকিটের ক্ষতিপূরণ হিসেবে অনুশীলন করার জন্য তিনি কার্পেটটি বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন।
কলকাতায় মেসিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিশৃঙ্খলা কেবল একটি ক্রীড়া ইভেন্টের ব্যর্থতা নয়, বরং ক্ষমতার দ্বন্দ্ব এবং ভিআইপি সংস্কৃতির চরম উদাহরণ হয়ে রইল।


