
মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ের লাশ!
নিজস্ব প্রতিবেদক, bdnewsnetwork.com
ঢাকা, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি ফ্ল্যাট আজ সোমবার এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো। শাহজাহান রোডের একটি আবাসিক ভবনের সপ্তম তলার বাসা থেকে মা ও মেয়ের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনা শুধু একটি পরিবারকেই নয়, পুরো এলাকা এবং ঢাকাবাসীর মনে গভীর শোক ও আতঙ্কের ছায়া ফেলেছে।
নিভে গেল দুই জীবন: লায়লা ও নাফিসা
নিহতরা হলেন মা লায়লা আফরোজ (৪৮) এবং তাঁর একমাত্র কন্যা নাফিসা নাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫)। লায়লা আফরোজ ছিলেন একজন গৃহিণী এবং নাফিসা মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির উজ্জ্বল ছাত্রী। তাঁদের হাসিখুশি জীবনে হঠাৎ নেমে আসা এই অন্ধকার যেন সমাজের ভেতরের নিরাপত্তাহীনতার এক ভয়ঙ্কর চিত্র তুলে ধরল।
নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম পলাশ (নামের ক্ষেত্রে সামান্য ভিন্নতা থাকতে পারে, যেমন এ জেড আজিজুল ইসলাম) ঢাকার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। প্রতিদিনের মতো সকালে তিনি স্কুলে চলে যান। দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে তিনি যখন বাসায় ফেরেন, তখনো হয়তো তিনি ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি যে কী ভয়াবহ দৃশ্য তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে।
রক্তাক্ত দৃশ্যের বর্ণনা
ফিরে এসে আজিজুল ইসলাম দেখেন, দরজা বাইরে থেকে খোলাই ছিল। ভেতরে প্রবেশ করে তিনি দেখতে পান পুরো মেঝে ও দেয়াল জুড়ে রক্তের ছাপ। প্রথমে ড্রয়িং রুমে মেয়ের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখতে পান তিনি। এরপর রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন, তাঁর স্ত্রী লায়লা আফরোজও রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। এই দৃশ্য দেখে তাঁর আর্তচিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। প্রাথমিক সূত্র অনুযায়ী, নিহতদের গলাকাটা বা কোপানোর আঘাত রয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবেশীদের সহায়তায় মেয়ে নাফিসাকে হাসপাতালে পাঠানো হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, লায়লা আফরোজের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
সন্দেহের তীর গৃহকর্মীর দিকে
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত হিসেবে বাসার গৃহকর্মীকে সন্দেহ করছে। পারিবারিক সূত্র জানায়, ওইদিন সকালে একজন গৃহকর্মী কাজে এসেছিলেন, কিন্তু ঘটনার পর থেকে তিনি নিখোঁজ। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ ধারণা করছে, আনুমানিক ২০ বছর বয়সী ওই গৃহকর্মী বোরকা পরে ফ্ল্যাটে ঢুকেছিলেন এবং কাজ শেষে নিহত নাফিসার স্কুলড্রেস পরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে বেরিয়ে যান। এতে করে সন্দেহের তীর আরও ঘনীভূত হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন (বা তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনার ইবনে মিজান) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি এবং তদন্তের কাজ চলছে। মা-মেয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আমরা দ্রুত অপরাধীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।”
এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবারও আমাদের সমাজের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলল। একটি পরিবারে এমন ভয়াল আঘাতের পেছনের কারণ কী, নেপথ্যে কোনো ব্যক্তিগত আক্রোশ ছিল কি না, নাকি এটি শুধুমাত্র ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুন—তা বিস্তারিত তদন্তের পরেই জানা যাবে।


