
দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দীর্ঘদিনের আলোচনা ও সংস্কারের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পুলিশের নতুন পোশাক বাহিনীর সদস্যদের গায়ে উঠেছে। গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫, শনিবার থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সহ দেশের সব মহানগর পুলিশ ইউনিট এবং বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিটে এই নতুন ইউনিফর্ম পরিধান শুরু হয়েছে।
নতুন এই পোশাকের রঙ হলো ‘লৌহ রং’, যা বাহিনীটির পেশাদারিত্ব ও দৃঢ়তাকে প্রতীকায়িত করে। অন্তর্বর্তী সরকারের বিশেষ অনুমোদনক্রমে এই পরিবর্তন কার্যকর করা হয়েছে, যা মূলত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ে পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে ওঠা সমালোচনার মুখে পুলিশ বাহিনীর সংস্কার ও পোশাক পরিবর্তনের জোর দাবির ফল। এই ঐতিহাসিক পরিবর্তন কেবল পোশাকের রং বা নকশা বদল নয়, বরং এটি একটি বিস্তৃত সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুরু হলো মহানগর ও বিশেষায়িত ইউনিটে
প্রাথমিকভাবে, এই পরিবর্তন দেশের প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাশাপাশি পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট যেমন— পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ এবং নৌ পুলিশ এখন থেকে নতুন এই লৌহ রঙের পোশাক পরিধান করবে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে নিশ্চিত করে বলেন, “আজ থেকে দেশের সব মহানগরে পুলিশের নতুন পোশাক চালু হয়েছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং পর্যায়ক্রমে সকল সদস্যের কাছে এই পোশাক পৌঁছে দেওয়া হবে।” এই পদক্ষেপটি বাহিনীর মধ্যে এক নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায়।
পর্যায়ক্রমে পরিবর্তন আসবে জেলা পুলিশেও
যদিও প্রথম ধাপে মহানগর পুলিশ এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলো নতুন পোশাক পেয়েছে, তবে জেলা পুলিশ ইউনিটগুলো এখনো পুরোনো পোশাকেই কাজ করছে। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, এই পরিবর্তন পর্যায়ক্রমিক।
পুলিশ সদর দপ্তরের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন প্রথম আলোর কাছে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি বলেন, “জেলা ও রেঞ্জ পুলিশ পর্যায়ক্রমে নতুন এই পোশাক পরিধান করবেন। এই প্রক্রিয়াটি সুসংগঠিতভাবে সম্পন্ন করার জন্য কাজ চলছে।”
তবে, পুলিশের কিছু বিশেষ ইউনিট তাদের বিদ্যমান পোশাকেই থাকবে। সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) শাহাদাত হোসাইন নিশ্চিত করেন যে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং স্পেশাল প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) সদস্যরা আপাতত তাদের পূর্বের নির্ধারিত পোশাকই ব্যবহার করবেন।
জনগণের প্রত্যাশা ও সংস্কারের বার্তা
পুলিশ বাহিনীর এই পোশাক পরিবর্তন জনগণের মধ্যে বেশ কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। পোশাকের এই দৃশ্যমান পরিবর্তন পুলিশের কাজের ধরনের গুণগত পরিবর্তন আনবে এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও সহজ ও ইতিবাচক হবে বলে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশা করে। নতুন লৌহ রঙের পোশাক একদিকে যেমন বাহিনীর আধুনিকায়নের ইঙ্গিত দেয়, অন্যদিকে তেমনি সংস্কারের প্রতি সরকারের প্রতিশ্রুতিকেও তুলে ধরে। এই পরিবর্তন বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে একটি নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে জনগণের সামনে উপস্থিত হতে সাহায্য করবে।


